GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / বিশেষ খবর / অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে আরও ২৩ বাংলাদেশি দেশে ফেরত

অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে আরও ২৩ বাংলাদেশি দেশে ফেরত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরত আসা যাত্রীদের সহায়তা

অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অভিযান থামছে না—এই ধারাবাহিকতায় আরও ২৩ জন বাংলাদেশিকে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিষয়টি সরাসরি নিরাপত্তা ও অর্থের ঝুঁকির বার্তা দিচ্ছে।

বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রত্যাবর্তন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরত আসা যাত্রীদের সহায়তা

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছেড়ে আসা বিশেষ ফ্লাইট আঠ ঔ ২৩২৩-এ তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে নামার পর ব্র্যাকের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এবং অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটির সহায়তায় ফেরত আসা ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক সহযোগিতা দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য পরিবহন সহায়তা করা হয়।

যাদের মধ্যে কারা ফিরেছেন

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ফেরত আসা ২৩ জনের মধ্যে ১৩ জন নোয়াখালীর বাসিন্দা। এ ছাড়া সিলেটের তিনজন এবং কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ঢাকা ও অন্যান্য জেলার বাসিন্দারাও রয়েছেন।

দীর্ঘ, ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ রুটের চিত্র

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে—ফেরত আসা ব্যক্তিদের অধিকাংশই দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার দীর্ঘ, ব্যয়বহুল এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রুট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তিনি বলেন, উন্নত জীবনের আশায় উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করেও শেষে তারা অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় পড়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হন।

কীভাবে যাত্রা ও কেন আইনি জটিলতা

প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, ফেরত আসা ২০ জন ব্রাজিল থেকে বলিভিয়া, পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, পানামা, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া, হন্ডুরাস ও গুয়াতেমালা হয়ে মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করে অনিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এ পথে তাদের ১৩ থেকে ১৫টি দেশ বাসে ও পায়ে হেঁটে অতিক্রম করতে হয়েছে। আরও দুজনের ক্ষেত্রে আলাদা রুট দেখা যায়—একজন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ব্রাজিল হয়ে এবং আরেকজন নিউইয়র্ক রুট দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন।

ফেরত আসা ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রাজিল রুট ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর ছাড়পত্র নিয়ে ব্রাজিলে যান। অন্যরা টুরিস্ট ভিসায় ব্রাজিলে প্রবেশের পর দালালচক্রের সহায়তায় একই অনিয়মিত রুট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কেউ কেউ কাজও করেন, তবে বৈধ অভিবাসনের শর্ত পূরণ করতে না পারায় তারা দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নজরে পড়েন। এরপর মার্কিন অভিবাসন আইনের লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

প্রবাসীদের জন্য সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারীদের ক্ষেত্রে আদালতের রায় বা প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা থাকে। আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে তাদের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া এগোয়। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রক্রিয়া দ্রুত হওয়ায় চার্টার্ড ও বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবহারও বেড়েছে। ফলে অনিয়মিত পথে যাওয়ার ঝুঁকি—অর্থ হারানো থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও আইনি জটিলতা—খুবই বাস্তব।

প্রশ্নোত্তর

ফেরত আসা ব্যক্তিদের সহায়তা করেছে কারা?
বিমানবন্দরে ব্র্যাকের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি সহায়তা করেছে।

দেশে ফেরত পাঠানোর কারণ কী?
বৈধ অভিবাসনের শর্ত পূরণ না হওয়ায় এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের প্রত্যাবাসন করা হয়।

প্রবাসীদের কী শেখা নেওয়া জরুরি?
অনিয়মিত রুটে যাওয়ার আগে ঝুঁকি ও আইনি পরিণতি মাথায় রেখে সতর্ক হওয়া দরকার।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: mzamin.com

Social Icons