স্বাস্থ্যখাতে গবেষণায় ব্যয় খুবই কম—এ কথা বলে গবেষণার সক্ষমতা বাড়ানোর জোরালো দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি বলেছেন, শুধু বড় শহরে চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়াই নয়, গবেষণার মাধ্যমে প্রতিরোধ ও সময়মতো রোগ শনাক্তের ব্যবস্থা জোরদার করতেই হবে।
কম ব্যয়ের বাস্তবতা, তবু গবেষণা বাড়াতে হবে

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্যখাতে গবেষণায় খুবই কম ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ দেশের বিপুল জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্যচাহিদা বিবেচনায় গবেষণার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। লক্ষ্য হওয়া উচিত মানসম্মত গবেষণা—যা রোগব্যাধি ঠেকাতে ও চিকিৎসার মান উন্নত করতে কাজে লাগবে।
এমবিবিএস থেকে গবেষণায় শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ
প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী এমবিবিএস ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল সায়েন্সের শিক্ষার্থীদের গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি। উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গবেষণার তহবিল সংগ্রহের কথাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে। একই সঙ্গে গবেষণার ফল যেন শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে—দেশজুড়ে ছড়িয়ে বাস্তবে প্রয়োগ হয়, সেটার ওপর জোর দেন তিনি।
গবেষণার ফল মাঠে নামানোর তাগিদ
জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ডেটা উপস্থাপনের আগে গবেষকদের উপজেলা হাসপাতালসহ মাঠপর্যায়ে গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করা উচিত। এতে আসল সমস্যা ও সংঘাতের জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে পৌঁছানো সহজ হয়। এক উপজেলার ভালো অভিজ্ঞতা অন্য উপজেলায় ছড়ালে সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে বলেও তিনি জানান।
ইউনিয়ন-গ্রাম পর্যন্ত স্বাস্থ্য ইউনিট, হেলথ কার্ড সংযোগ
প্রান্তিক মানুষের কাছে আধুনিক চিকিৎসা পৌঁছানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন, গ্রাম ও শহরের ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য ইউনিট গড়ে তোলার উদ্যোগ চলছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী হেলথ কার্ডকে ইলেকট্রনিক পদ্ধতির ‘ইলেকট্রনিক পেশেন্ট রেফারেন্স সিস্টেমের’ সঙ্গে যুক্ত করা হবে। ফলে একজন রোগীকে অপ্রয়োজনে ইউনিয়ন বা উপজেলা পার হয়ে ঢাকায় এসে ভিড় জমাতে হবে না।
প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার দিকে রূপান্তর
বর্তমান চিকিৎসাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে বদলে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় রূপান্তরের ওপর জোর দেন তিনি। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট, স্ট্রোক বা ক্যানসারের শেষ ধাপ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করে সুস্থ থাকার সুযোগ তৈরি করা—এই ভাবনার সঙ্গে গবেষণাকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। নীতিগত পরিবর্তন ও সংস্কার সফল করতে নিপসমের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার সহায়তা দেবে বলেও জানান।
প্রবাসী পাঠকের জন্য কী বার্তা
প্রবাসে থাকা পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হলে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা পেতে চান—আর সেটাই গবেষণার মান উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। গবেষণার ফল যখন মাঠপর্যায়ে পৌঁছায়, তখন প্রান্তে প্রাথমিক সেবা শক্ত হয় এবং ব্যয়বহুল দেরি হওয়া চিকিৎসার ঝুঁকিও কমে।
সংক্ষেপে প্রশ্নোত্তর
স্বাস্থ্যখাতে গবেষণায় কম ব্যয়ের কথা কে বলেছেন?
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন।
গবেষণার ফল কীভাবে ব্যবহার হবে?
শুধু কাগজে নয়, দেশজুড়ে ছড়িয়ে বাস্তবে প্রয়োগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
হেলথ কার্ডের সঙ্গে কী যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে?
‘ইলেকট্রনিক পেশেন্ট রেফারেন্স সিস্টেমের’ সঙ্গে ইলেকট্রনিকভাবে যুক্ত করার কথা এসেছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









