শিশুর যত্নে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তটা হয় জন্মের পরপরই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, মায়ের দুধই শিশুর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ, পুষ্টিকর ও প্রাকৃতিক খাবার—শালদুধ থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধ পর্যন্ত নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহে ডব্লিউএইচওর বার্তা

বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে সংস্থাটি বাংলাদেশেও মায়ের দুধের গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতামূলক বার্তা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জন্মের পর সঠিক সহায়তা ও পরামর্শ পেলে মাতৃদুগ্ধদান প্রক্রিয়া সহজ ও সফল হয়।
শালদুধ কেন এত জরুরি
ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, জন্মের পর মায়ের প্রথম দুধকে শালদুধ বলা হয়। এই শালদুধ শিশুর জন্য সবচেয়ে উপকারী। অল্প পরিমাণ শালদুধই নবজাতকের শারীরিক চাহিদা মেটাতে সাহায্য করতে পারে।
শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
মায়ের দুধ শিশুর হজমশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্ত করতে ভূমিকা রাখে। সংস্থার মতে, মায়ের দুধে থাকা উপকারী উপাদান শিশুকে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।
মা ও শিশুর মানসিক বন্ধনও মজবুত করে
মায়ের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে মা ও শিশুর মধ্যে ভালোবাসা এবং মানসিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়। ফলে এটি শুধু পুষ্টি নয়, সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব রাখে।
প্রথম কয়েক দিনে বারবার খাওয়ালেই উৎপাদন বাড়ে
সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, জন্মের পর প্রথম কয়েক দিন শিশুকে বারবার বুকের দুধ খাওয়ালে মায়ের দুধ দ্রুত তৈরি হয়। মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং সুস্থ জাতি গঠনে মাতৃদুগ্ধদানে সবাইকে উৎসাহিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
প্রবাসী মা-বাবাদের জন্য বার্তাটা কেন গুরুত্বপূর্ণ? ডিউটি, দূরে থাকা, কিংবা সময়ের চাপ—যাই থাকুক, শিশুর প্রথম সময়টাই সবচেয়ে সংবেদনশীল। মায়ের দুধ নিয়ে সঠিক নির্দেশনা ও সহায়তা পেলে বাসায় যত্ন আরও সহজ হয়, শিশুর সুরক্ষা ও বিকাশও এগিয়ে থাকে।
সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন
শালদুধ কি সত্যিই অল্প পরিমাণে কাজ করে? ডব্লিউএইচও বলছে, অল্প শালদুধই নবজাতকের শারীরিক প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক।
মায়ের দুধ কি হজমে সাহায্য করে? সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এটি শিশুর হজমশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে।
শিশুর জন্মের পরপরই কী করা উচিত? জন্মের পর সঠিক সহায়তা ও পরামর্শ পেয়ে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ানোর দিকেই জোর দিয়েছে সংস্থাটি।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









