প্রশাসনিক ধীরগতি কাটিয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় গতি আনতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নিয়েছে ২৫টি উদ্যোগ। এর মধ্যে ইএমআইএস আধুনিকায়ন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সিসিটিভি মনিটরিং, ডিজিটাল লার্নিং ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই—সব মিলিয়ে প্রবাসী পরিবারগুলোর শিক্ষাবিষয়ক চিন্তার জায়গায় বড় পরিবর্তন আসার ইঙ্গিতই বেশি।
ইএমআইএস আধুনিকায়ন ও সাইবার সুরক্ষা

উদ্যোগগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থাপনা তথ্যভান্ডার ইএমআইএসের আধুনিকায়ন। পেনিট্রেশন টেস্টিং ও সিকিউরিটি অডিটের মাধ্যমে ক্লাউডে স্থানান্তর করে সিস্টেমটি উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে এমপিও, সরকারি শিক্ষকদের তথ্য হালনাগাদ, শূন্যপদের তালিকা এবং তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি সহজ হবে।
ইএমআইএসের মধ্যেই ইনহাউস এআই চ্যাটবট, ডিজিটাল ইনভেন্টরি সফটওয়্যার, এবং মাউশির ওয়েব পোর্টাল, ফেসবুক ও ইউটিউব ব্যবস্থাপনার উদ্যোগও রাখা হয়েছে। পত্রগ্রহণ শাখা সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার কথাও বলা হয়েছে।
এআই সেবা, শিক্ষক বদলি ও জবাবদিহি জোরদার
এআই সেবাকে ব্যবহার করে প্রশাসনিক কাজ আরও দ্রুত করার লক্ষ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির জন্য স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য এমপিও পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও সফটওয়্যার তৈরির প্রস্তাব রয়েছে।
প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনতে জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা শুরুর কথাও আছে। গত ১৭ বছরে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের পুনর্বহাল ও বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগের কথাও উঠে এসেছে।
ক্লাসরুমে ডিজিটাল সুবিধা ও নিরাপত্তা নজরদারি
ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং ডিজিটাল লার্নিং সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা আছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সিসিটিভি মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও করা হবে। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করে সার্বক্ষণিক নজরদারির পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
পুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সচেতনতা
শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সুবিধা ও সুস্থ পরিবেশ তৈরির কথাও বলা হয়েছে। স্কুল পুষ্টি কর্মসূচি চালু থাকবে। নারী শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘মনের বন্ধু’ কর্মসূচি, স্বাস্থ্য ও প্রজনন সচেতনতা, নৈতিকতা ও সমানুভূতি শিক্ষা, এবং গ্রিন স্কুল বাস্তবায়নের উদ্যোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবেশ সুরক্ষায় ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির নির্দেশনার অংশ হিসেবে ২৯ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮৮ হাজার গাছ রোপণের তথ্য এসেছে।
ডিজিটাল শিক্ষা বিস্তার ও জাতীয়করণের উদ্যোগ
প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের গণিত ও বিজ্ঞানে দক্ষতা বাড়াতে জাইকার সহায়তায় ডিজিটাল লার্নিং সিস্টেম এবং খান একাডেমি বাংলাদেশের সহযোগিতায় ‘লার্ন ম্যাথ উইথ খান একাডেমি’ চালুর পরিকল্পনা আছে।
এদিকে জাতীয়করণের লক্ষ্যে তিনটি বেসরকারি কলেজ ও দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে। ইএমআইএসের পাশাপাশি ই-এডুকেশন এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমে সারা দেশ থেকে পাওয়া উদ্ভাবনী উদ্যোগের মধ্যে সেরা ১০১টিকে পুরস্কৃত করার উদ্যোগও রয়েছে।
প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার এই ডিজিটাল ও প্রশাসনিক পরিবর্তন বাস্তবে হলে ভর্তির তথ্য, বদলি-স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং শিক্ষার মান—সব দিকেই প্রভাব পড়তে পারে। প্রবাসী অভিভাবকদের জন্যও এর মানে হলো অনিশ্চয়তা কমে স্বচ্ছ তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।
প্রশ্ন: ইএমআইএস আধুনিকায়নে মূল লক্ষ্য কী?
উত্তর: তথ্য হালনাগাদ, শূন্যপদের তালিকা ও প্রতিবেদন তৈরি সহজ করা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
প্রশ্ন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কী ধরনের সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ফ্রি ওয়াই-ফাই, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ডিজিটাল লার্নিং এবং কেন্দ্রীয় সিসিটিভি মনিটরিং।
প্রশ্ন: শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কোন উদ্যোগগুলো আছে?
উত্তর: স্কুল পুষ্টি কর্মসূচি, ‘মনের বন্ধু’ ও পরিবেশ সচেতনতা কর্মসূচি।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









