বছরের পর বছর পরিবারের থেকে দূরে থেকে কঠোর পরিশ্রম। তারপর একটা টিকিটের টানে বদলে গেল দিনের হিসাব—এই গল্পই এখন ইউএইতে আলোচনায়। ৫২ বছর বয়সী সুনীল দাবি করছেন, সবচেয়ে বড় পাওয়া টাকা নয়; যা তিনি চান, সেটাই হলো স্ত্রী ও মেয়ের পাশে সময়।
১৮ বছর বয়সে দেশ ছাড়ার কঠিন শুরু

সুনীল বলেন, মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি প্রায় খালি হাতে দেশ ছেড়েছিলেন। তখন জীবনের অনেক সিদ্ধান্ত নিজের ইচ্ছামতো নেওয়ার সুযোগ ছিল না। ছয় বোনের বিয়ে দেওয়া এবং তাদের সংসার গুছিয়ে দেওয়াকেই তিনি বড় দায়িত্ব মনে করেছিলেন।
বারবার ফিরে আসা—সংযুক্ত আরব আমিরাতের টান
পরিবার গুছিয়ে নেওয়ার পর ২০০৬ সালে তিনি বিয়ে করেন। কাজের খোঁজে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান। কিছুদিন পর ভারতে ফিরে টাইলস ঠিকাদারের কাজ শুরু করলেও আর্থিক সমস্যার কারণে আবার ইউএইতে ফিরে আসতে হয়। গত দুই বছর ধরে তিনি সেখানে মেইনটেন্যান্স টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করছেন।
সন্তানের অপেক্ষাই ছিল সবচেয়ে কঠিন সময়
সুনীলের ভাষায়, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল সন্তানের অপেক্ষা। তিনি ও তার স্ত্রী প্রায় ১২ বছর ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। একাধিকবার চিকিৎসা নিয়েছেন এবং নিজেদের সঞ্চয়ের বড় অংশও এতে খরচ হয়েছে। তারপরও তারা আশা হারাননি। শেষ পর্যন্ত তাদের মেয়ে জন্ম নেয়, আর সেই মুহূর্তই নতুন আনন্দ এনে দেয়। স্ত্রীর সঙ্গেই তিনি সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন—এমন কথাও তিনি বলেছেন।
এক লটারির টিকিট, গ্র্যান্ড প্রাইজের পর নতুন লক্ষ্য
সুনীল জানান, এক বুধবার রাতে নিজের, স্ত্রী ও মেয়ের জন্মতারিখ মিলিয়ে তিনি একটি ইউএই লটারির টিকিট কেনেন। কাজ শেষে ফল দেখে প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন হয়তো ছোট কোনো পুরস্কার হয়েছে। কিন্তু পরে জানতে পারেন, তিনিই জিতেছেন ৩ কোটি দিরহামের গ্র্যান্ড প্রাইজ।
এই অর্থ তিনি কীভাবে ব্যবহার করতে চান—তার পরিকল্পনা স্পষ্ট। প্রথমে পরিবারের অসমাপ্ত বাড়ির কাজ শেষ করবেন। এরপর স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে সময় কাটাবেন। পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য কাজ করার কথাও বলেছেন তিনি। দেশে ফিরে একটি ছোট ব্যবসা শুরু করার ইচ্ছাও রয়েছে তার।
প্রবাসে থেকেও পরিবারকে কেন্দ্র করে এগোনোর যে গল্প, সেটাই এখন সুনীলের কাছে আসল প্রাপ্তি। তিনি চান মানুষ তাকে শুধু লটারি বিজয়ী হিসেবে না দেখে, সমাজের জন্য করা কাজের মাধ্যমেই মনে রাখুক।
প্রবাসীদের জন্য বার্তা
প্রবাসে যারা চাকরি, সংসার আর ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে আছেন, তাদের কাছে এই ঘটনার সবচেয়ে বড় গুরুত্ব একটাই: দীর্ঘ অপেক্ষা ও সংগ্রাম একদিন নতুন সুযোগ এনে দিতে পারে।
সংক্ষেপে প্রশ্ন-উত্তর
প্রবাসী সুনীল কী জিতেছেন? ইউএই লটারির ৩ কোটি দিরহামের গ্র্যান্ড প্রাইজ।
সুনীলের কাছে সবচেয়ে বড় মূল্য কী? পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ।
তিনি জেতা অর্থে কী করতে চান? অসমাপ্ত বাড়ির কাজ শেষ, পরিবারকে সময় দেওয়া, দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশে ছোট ব্যবসা শুরু।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









