অস্ট্রেলিয়ার সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে জমে উঠল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাইদের আবেগ-ভরা মিলনমেলা। দূর পরবাসের কর্মব্যস্ততার ফাঁকেই প্রিয় ক্যাম্পাসকে ঘিরে গড়ে উঠল এক টানটান অনুভূতি—যা হয়ে দাঁড়াল ঈদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফোরাম অ্যাডিলেড, অস্ট্রেলিয়া (DUFAA)-এর বিশেষ ‘গেট-টুগেদার’।
অ্যাডিলেডে ঢাবি অ্যালামনাই মিলনমেলা

গত শনিবার স্থানীয় বিফএকর কমিউনিটি হলে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনকে ঘিরে একসঙ্গে হন দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার নানা শহর ও শহরতলিতে ছড়িয়ে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। প্রবাস জীবনের মাঝেও সতীর্থদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় পরিবেশে ছিল উৎসবের আমেজ আর স্মৃতিচারণার ছোঁয়া।
আয়োজনে অংশ নেন অ্যালামনাই ও বিশেষ অতিথি
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ অ্যালামনাইদের মধ্যে রায়হান ফেরদৌসী (রুনু), সিনিয়র অ্যালামনাই, ডা. রওনক রাহাত কনক (জিপি) (ঢাকা মেডিকেল কলেজ), সাবকার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ তারেক, বাসার সেক্রেটারি স্বাধীনসহ আরও অনেকে। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল লেবার পার্টির সাউথ অস্ট্রেলিয়ান পার্লামেন্ট মেম্বার (এমপি) টরেন্স কনস্টিটিউশনের মেগান স্পেন্সার।
মেগান স্পেন্সার তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির মেধা ও কর্মদক্ষতার পাশাপাশি মূলধারার সমাজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের ইতিবাচক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। এতে আয়োজনে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ তৈরি হয়।
কেক কাটায় ছিল ঈদ-ঢাবির মিলিত উদ্যাপন
ঈদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস গেট-টুগেদার অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি মেগান স্পেন্সার, রায়হান ফেরদৌসী (রুনু), মলি, লিজা, ড. আনিতা ফাইরুজ, ড. এম ইউনুস, জালাল, আজমির হোসেনসহ অন্যরা মিলে কেক কাটেন। এই মুহূর্তটি হয়ে ওঠে প্রবাসে একত্র হওয়ার আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলার আয়োজন।
প্রথম ই-ম্যাগাজিন প্রকাশ—গবেষণাধর্মী প্রয়াস
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল DUFAA-এর চার বছরের পথচলায় প্রথমবারের মতো উচ্চমানের ও গবেষণাধর্মী ই-ম্যাগাজিনের আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন। ইস্যু নম্বর-১ হিসেবে প্রকাশিত এই ম্যাগাজিনটি কেবল স্যুভেনির নয়; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ঐতিহ্য এবং বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার—দুই দিকেই দৃষ্টি রেখে করা অনুসন্ধিৎসু প্রকাশনা।
ম্যাগাজিনটির চিফ এডিটর ড. এম ইউনুস জানান, প্রথম সংখ্যায় প্রথিতযশা প্রাক্তনদের প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা, কবিতা এবং বাস্তবধর্মী ছোটগল্প রাখা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, অবদানকারীদের বড় একটি অংশই বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড, মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটি, আরএমআইটি (আরএমআইটি) এবং ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক, গবেষক ও একাডেমিক—যা প্রকাশনার মানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
প্রবাসের মাটিতে ঢাবির ডানা মেলে দেওয়ার এই আয়োজন প্রমাণ করল, দূরের শহরেও স্মৃতির টান আর জ্ঞানচর্চার আকাঙ্ক্ষা একই ছন্দে এগিয়ে চলে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: nagorik.prothomalo.com









