ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হওয়া রাজধানীর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল আবার প্রাণ ফিরে পেতে যাচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে চ্যানেল থেকে বর্জ্য অপসারণ করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রবাসীসহ সব নগরবাসীর কাছে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ—কারণ খাল পরিষ্কার থাকলে কমে দুর্গন্ধ, মশা ও জলাবদ্ধতার ভোগান্তি।
দূরানী খাল এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সেকশন ব্রিজ সংলগ্ন দূরানী খাল এলাকায় আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন যৌথভাবে এ উদ্যোগ শুরু করেছে।
পরিবেশ ফেরানোর নির্দেশের ধারাবাহিকতা
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় চ্যানেলটি পরিষ্কার করা, নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আগে বিডি ক্লিনের সদস্য ও অংশীজনদের শপথবাক্য পাঠ করান মীর শাহে আলম। অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলা প্রশাসক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং সংসদ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিনের দখল ও বর্জ্যে ভোগান্তি
ঢাকার প্রাচীন জলধারাগুলোর অন্যতম আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার। দূরানী ব্রিজ সংলগ্ন অংশটি দীর্ঘদিন ধরে দখল ও বর্জ্য ফেলার কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব এবং জলাবদ্ধতায় স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।
পরিষ্কারের পর নাব্যতা ও সৌন্দর্যবর্ধন
চ্যানেলটির সংশ্লিষ্ট অংশ ২০২২-২৩ অর্থবছরে দখলমুক্ত করা হলেও, এবার নতুন করে চ্যানেল ও আশপাশে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষে চ্যানেলটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনার কাজ করা হবে বলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধন এবং জনসাধারণের চলাচলের জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
আবার যেন দূষণ না হয়, নজরদারি বাড়বে
ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিষ্কারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন চ্যানেলটি আবার দখল ও দূষণের শিকার না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও খাল ও চ্যানেলে ময়লা না ফেলতে সচেতন করার উদ্যোগ রয়েছে। এই কাজ সফল হলে দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনায় হারিয়ে যাওয়া আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব জলাধারে রূপ নিতে পারে।
প্রবাসীদের জন্য কেন জরুরি?
রাজধানীর খাল ও জলধারা পরিষ্কার থাকলে বৃষ্টির মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমে, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্গন্ধও কমে। ফলে পরিবার নিয়ে থাকুক বা দূরে থাকুক—সবার দৈনন্দিন নিরাপত্তা ও আরামই লাভবান হবে।
প্রশ্ন: পরিচ্ছন্নতা শেষে কী করা হবে?
উত্তর: বর্জ্য অপসারণের পর চ্যানেলটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনার কাজ করা হবে। পাশাপাশি দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধন ও ওয়াকওয়ে করার পরিকল্পনা আছে।
প্রশ্ন: কারা যৌথভাবে এই উদ্যোগ নিয়েছে?
উত্তর: ঢাকা জেলা প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে।
প্রশ্ন: কেন এতদিন সমস্যা হচ্ছিল?
উত্তর: দখল ও বর্জ্য জমে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গন্ধ, মশা ও জলাবদ্ধতা বাড়ছিল।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









