GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / ধর্ম ও সমাজ / আরবাঈন তীর্থযাত্রায় লাল পতাকার বার্তা

আরবাঈন তীর্থযাত্রায় লাল পতাকার বার্তা

নাজাফ থেকে কারবালার পথে আরবাঈন পদযাত্রার লাল পতাকা ও ভিড়

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের টানটান পরিস্থিতির মধ্যেই শুরু হয়েছে আরবাঈন তীর্থযাত্রা। নাজাফ থেকে কারবালার পথে পদযাত্রায় লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলিম অংশ নিচ্ছেন, আর যাত্রাপথে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে লাল পতাকার দৃশ্যও দেখা গেছে।

আরবাঈন মানে কী, কেন পালিত হয়

নাজাফ থেকে কারবালার পথে আরবাঈন পদযাত্রার লাল পতাকা ও ভিড়

আরবাঈন হচ্ছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র এবং শিয়া মুসলমানদের তৃতীয় ইমাম ইমাম হুসাইন (আ.)-এর পবিত্র মাজারের উদ্দেশে পদযাত্রা। “আরবাঈন” শব্দের অর্থ চল্লিশ। ইসলামি চান্দ্র মাস মহররমের ১০ তারিখে কারবালার যুদ্ধে ইমাম হুসাইন (আ.) শহিদ হন। সেই ঘটনার ৪০ দিন পর সফর মাসের ২০ তারিখে আরবাঈন পালন করা হয়।

কারবালায় শোকানুষ্ঠানের কেন্দ্রীয় টান

এই উৎসবের প্রধান আয়োজন হয় ইমাম হুসাইনের মাজারকে কেন্দ্র করে। তীর্থযাত্রীরা কারবালায় পৌঁছে আরবাঈন উপলক্ষ্যে আয়োজিত শোকানুষ্ঠানে অংশ নেবেন। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ এই সমাবেশে যোগ দেন—যদিও অংশগ্রহণকারীর সঠিক সংখ্যা বছরভেদে বদলায়।

নাজাফ থেকে কারবালা—হাঁটার পথে ‘মাওকিব’

প্রথা অনুযায়ী অনেকেই নাজাফ থেকে কারবালা পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করেন। পথে পথে তীর্থযাত্রীদের জন্য ‘মাওকিব’ নামে স্বেচ্ছাসেবী শিবির থাকে—যেখানে খাবার, পানি, চিকিৎসাসহ সহায়তা দেওয়া হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ধরে রেখে প্রার্থনা, জিয়ারত, ধর্মীয় আলোচনা ও মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।

লাল পতাকার প্রতীকী বার্তা

এবার আরবাঈন পদযাত্রায় তীর্থযাত্রীদের হাতে লাল পতাকা দেখা গেছে। মূলত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবেই এই লাল পতাকা বহন করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের রাজধানী তেহরানেও আজাদি স্কয়ারে বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রীর বিদায় অনুষ্ঠান হয়েছে; এরপর তারা ইরাকের কারবালার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।

যুদ্ধঝুঁকির ছায়ায় জনসামাগম

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। হামলা আপাতত বন্ধ থাকলেও যে কোনো সময় আবার শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে আরবাঈন। ফলে জনসামাগম আগের তুলনায় কিছুটা কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আরবাঈনের এই লাখো মানুষের পদযাত্রা ঘিরে ইরাক-ইরান অঞ্চলে যাতায়াত, নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন পরিস্থিতিতে প্রভাব পড়তে পারে।

প্রশ্নোত্তর

আরবাঈন পালন করা হয় কবে?
মহররমের ১০ তারিখে কারবালার ঘটনার ৪০ দিন পর সফর মাসের ২০ তারিখে।

আরবাঈনের প্রধান অনুষ্ঠান কোথায় হয়?
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাজারকে কেন্দ্র করে কারবালায়।

নাজাফ থেকে কারবালা পর্যন্ত পথ কতটা?
প্রায় ৮০ কিলোমিটার—অনেকেই পায়ে হেঁটে যান।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons