দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বাংলাদেশি ওষুধও দখল করছে আন্তর্জাতিক বাজার। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রপ্তানি উপস্থিতি ছোট আকারের নয়—বিশ্বের ১৩২টি দেশে পৌঁছে যাচ্ছে ওষুধশিল্পের পণ্য।
১৩২ দেশে বিস্তার, লক্ষ্য এখন আরও বড় বাজার

স্থানীয় চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা অর্জনের পরই রপ্তানির গতি ত্বরান্বিত হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের ১৩২টি দেশে। আন্তর্জাতিক বাজারে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার চিত্রটাই সামনে এসেছে এ অগ্রগতিতে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ টাকার নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ কাজের সুযোগ—দুটোই শিল্পের সম্প্রসারণের সঙ্গে জড়িত।
১০ বছরে রপ্তানি বেড়েছে ৮৯ থেকে ২৩৮ মিলিয়ন ডলার
গত ১০ বছরে ওষুধ রপ্তানির অঙ্কে বড় লাফ দেখা গেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রপ্তানি ছিল ৮৯ মিলিয়ন ডলার। পরে তা বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ২৩৮ মিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ, প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৬৭ শতাংশ। মাঝখানে কিছু সময়ের পতন হলেও আবার শক্ত অবস্থানে ফিরে আসার ধারাই দেখা যায়।
অর্থবছরভিত্তিক অগ্রগতি: ধারাবাহিকভাবে ওপরের দিকে
রপ্তানির প্রবণতায় ওঠানামা থাকলেও মোটের ওপর ঊর্ধ্বমুখী ধারা থামেনি। ২০২১-২২ পর্যন্ত রপ্তানি বেড়ে হয় ১৮৯ মিলিয়ন ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কিছুটা কমে ১৭৫ মিলিয়ন ডলারে নামে, এরপর ফের গতি ফিরে আসে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি ২০৫ মিলিয়ন ডলার, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২১৩ মিলিয়ন এবং সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৩৮ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। চলতি বছরের হিসেবে আগের বছরের তুলনায় বাড়তি অগ্রগতি ধরে রাখার বার্তাই এতে আছে।
কঠোর মাননিয়ন্ত্রণের বাজারেও বাংলাদেশি ওষুধ
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো কঠোর মাননিয়ন্ত্রণের বাজারেও বাংলাদেশি ওষুধ রপ্তানির উপস্থিতি রয়েছে। এটি শুধু বাণিজ্যিক অর্জন নয়—শিল্পের মান ও সক্ষমতা নিয়ে আস্থার প্রমাণও। স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদনে সক্ষমতা গড়ে ওঠার পর এখন বৈশ্বিক বাজারে আরও বড় অংশ দখলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শীর্ষ গন্তব্যে শ্রীলঙ্কা এগিয়ে
রপ্তানির বড় গন্তব্যগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা শীর্ষে আছে। এরপর রয়েছে মিয়ানমার, ফিলিপাইন, যুক্তরাষ্ট্র, কম্বোডিয়া, আফগানিস্তান, কেনিয়া, পাকিস্তান, চিলি এবং যুক্তরাজ্য। গন্তব্যের তালিকা বিস্তৃত হওয়ায় শিল্পের ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে ভাগ হয়ে যাচ্ছে—এক জায়গায় সমস্যা হলে অন্য বাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকে।
প্রবাসীদের জন্য প্রভাবটা কী?
ওষুধশিল্প যখন রপ্তানিতে এগোয়, তখন কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও শিল্পভিত্তিক অর্থপ্রবাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। প্রবাসী আয় যারা পাঠান, তাদের পারিবারিক বাজেটের স্থিতিও দেশের অর্থনীতির এই ধরনের অগ্রগতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। ফলে এই খবরের অর্থ শুধুই পরিসংখ্যান নয়—ভবিষ্যৎ সুযোগের বার্তা।
প্রশ্ন-উত্তর
বাংলাদেশি ওষুধ এখন কোন কোন দেশে রপ্তানি হচ্ছে?
তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৩২টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
গত ১০ বছরে রপ্তানি কত বেড়েছে?
২০১৬-১৭ সালে ৮৯ মিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৫-২৬ সালে ২৩৮ মিলিয়ন ডলারে উঠেছে।
কঠোর বাজারেও বাংলাদেশি ওষুধ আছে কি?
আছে—যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো বাজারেও রপ্তানি হয়েছে বলে তথ্য আছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









