GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য হ্যান্ডলিং কমেছে তৃতীয় প্রান্তিকে

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য হ্যান্ডলিং কমেছে তৃতীয় প্রান্তিকে

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য হ্যান্ডলিং ও কনটেইনার লোডিংয়ের দৃশ্য

প্রবাসীদের টাকার হাত বদলে দেয় বাণিজ্যের গতি। সেই বাণিজ্যের অন্যতম বড় ধমনী চট্টগ্রাম বন্দরে চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে পণ্য হ্যান্ডলিং কমে যাওয়ার প্রভাব পড়তে পারে আমদানি-রপ্তানি দৌড়ের তালেও।

জানুয়ারি-মার্চে মোট হ্যান্ডলিং কমল

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য হ্যান্ডলিং ও কনটেইনার লোডিংয়ের দৃশ্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি-মার্চ সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট ৩ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে তুলনায় এটি ০.৬৭ শতাংশ কম

প্রথম দুই প্রান্তিকে যেখানে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল, সেখানে তৃতীয় প্রান্তিকে এসে সার্বিক গতি থেমে যায়। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন বেড়েছিল ১৩.৮৮ শতাংশ, আর অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকেও প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.৬৬ শতাংশ

রপ্তানি পণ্যেই বড় পতন

তৃতীয় প্রান্তিকে বন্দরের সার্বিক হ্যান্ডলিং কমার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে রপ্তানি পণ্য। জানুয়ারি-মার্চ সময়ে রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডলিং ৮.৫৪ শতাংশ কমে ১ কোটি ৯৭ লাখ মেট্রিক টনে নেমে আসে। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন

বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়—অর্থবছরের শুরুতে রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডলিং বেশ ভালোই ছিল। প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮.৩২ শতাংশ, দ্বিতীয় প্রান্তিকেও বেড়েছিল ৯.৩৫ শতাংশ। কিন্তু এরপর তৃতীয় প্রান্তিকে এসে হঠাৎ পতনের মুখে পড়ে খাতটি।

কেন কমল রপ্তানি কার্যক্রম

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার পরিবর্তন—বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ে রপ্তানি কার্যক্রমে। পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সমন্বয়, এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আমদানি-রপ্তানি চলাচলেও কিছুটা বাধা তৈরি হয়েছে।

আমদানিতে সাময়িক স্থবিরতা

চট্টগ্রাম বন্দরের বড় অংশই আমদানি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। তৃতীয় প্রান্তিকে এ খাতেও প্রবৃদ্ধির গতি থেমে যায়। জানুয়ারি-মার্চ সময়ে আমদানি পণ্য হ্যান্ডলিং ০.১৭ শতাংশ কমে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরের একই প্রান্তিকে তা ছিল ৩ কোটি ৪০ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন

তবে প্রথম দুই প্রান্তিকে আমদানি পণ্য হ্যান্ডলিং শক্তিশালী ছিল—জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ১৩.৫৫ শতাংশ এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে ১০.৭৫ শতাংশ বেড়েছিল। তাই তৃতীয় প্রান্তিকার সামান্য পতনকে সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা নয়, বরং সাময়িক স্থবিরতা হিসেবেই দেখছেন।

দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক সম্ভাবনা

পণ্য হ্যান্ডলিং কমলেও সামগ্রিকভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রবণতার কথাও বলছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্দরে মোট ১৩ কোটি ৭ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছিল; আগের বছর ছিল ১২ কোটি ৩২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ এক বছরে বৃদ্ধি ছিল ৬.০৭ শতাংশ

জেটি অবকাঠামোর উন্নয়ন, কনটেইনার ওঠানামা ও খালাস কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা, এবং বছরের শেষ প্রান্তিকে নতুন রপ্তানি আদেশ বাড়লে আবারও পণ্য হ্যান্ডলিং বাড়তে পারে বলে আশা করছেন তারা।

প্রবাসীদের জন্য বার্তাটা কী

বন্দরভিত্তিক এ ওঠানামা আমদানি-রপ্তানির গতি, পণ্যের সরবরাহ এবং ব্যবসায়িক আস্থা—সব কিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে। রপ্তানি কার্যক্রমে ধাক্কা লাগলে কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্সের প্রবাহেও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে; তাই পরের প্রান্তিকগুলোর দিকে নজর গুরুত্বপূর্ণ।


সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কত পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে?
৩ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন।

সার্বিক কমার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ কোন খাত?
রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে বড় পতন।

আমদানিতে কী অবস্থা ছিল?
জানুয়ারি-মার্চ সময়ে আমদানি পণ্য হ্যান্ডলিং সামান্য কমেছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons