চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে আটকে থাকা কনটেইনারগুলো বন্দরের স্বাভাবিক গতি কমিয়ে দিয়েছে। বন্দরের তথ্য বলছে, গত ৩০ জুন পর্যন্ত প্রায় ২২ শতাংশ ইয়ার্ড জায়গা খালি কনটেইনারসহ আটকে থাকা কনটেইনার দখলে ছিল।
২২ শতাংশ ইয়ার্ড জায়গা দখলে কনটেইনার

বন্দরের তথ্যানুসারে, ওই সময় বন্দরে আটকে ছিল ৯ হাজার ৩৩০ টিইইউস কনটেইনার। এর প্রভাব পড়ছে বন্দরের ধারণক্ষমতা ও কার্যক্রমে, ফলে কাঁচামাল ও পণ্যের খালাস-প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।
অ্যাডমিন জট ও আইনি জটের টানাপোড়েন
বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদের হিসাব মতে, প্রশাসনিক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দীর্ঘ আইনি জটের কারণেই প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের বাণিজ্যিক পণ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে কনটেইনারের জরিমানা ও বন্দরের রাজস্ব ক্ষতির হিসাব মিলিয়ে মোট অর্থনৈতিক লোকসান পাঁচ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে জরুরি চিঠি
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ২ জুলাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে জরুরি চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। চিঠিতে বছরের পর বছর পড়ে থাকা নিলামযোগ্য কার্গো ও কনটেইনার দ্রুত খালাস বা ধ্বংস করার তাগিদ দেওয়া হয়।
স্টোরেজ চার্জের চাপ ও বড় অঙ্কের পাওনা
বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, বকেয়া স্টোরেজ চার্জের পাওনার পরিমাণ ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা। ইয়ার্ডগুলোতে কনটেইনারের বড় অংশ খালি করা গেলে, অতিরিক্ত কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই বন্দর ৪০ শতাংশ বেশি কার্গো হ্যান্ডলিং করতে পারবে বলে ধারণা তুলে ধরা হয়েছে।
কনটেইনার ছাড়াও কার্গোর স্তূপ
কনটেইনারের পাশাপাশি ইয়ার্ডগুলোতে এক লাখ ২৪ হাজার ৭৯৯ প্যাকেজ এলসিএল কার্গো, ছয় হাজার ৯২ প্যাকেজ বাল্ক পণ্য এবং ৭৭৫ প্যাকেজ বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ পড়ে আছে। এর মধ্যে কিছু পণ্য ২৩ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে, যার বেশিরভাগই ব্যবহারের অনুপযোগী।
কাস্টমসের ধীরগতি ও অ্যাসেসমেন্ট দ্বন্দ্ব
ব্যবসায়ীদের মতে, কাস্টমসের ধীরগতি, পণ্যের মূল্যায়ন নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ, অতিরিক্ত নথিপত্রের চাহিদা এবং নিলাম প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণেই অচলাবস্থা বাড়ছে। তাদের দাবি, কাস্টমসের অ্যাসেসমেন্টে সময় লাগে, আর বন্দরে চার দিন পর থেকেই ডেমারেজ শুরু হওয়ায় বাধ্য হয়ে বাড়তি জরিমানা গুনতে হচ্ছে। ফলে রপ্তানি শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
সব কনটেইনার নিলামযোগ্য নয়
এদিকে চট্টগ্রাম কাস্টমসের মুখপাত্র জানান, বন্দরে থাকা সব কনটেইনার নিলামযোগ্য নয়। তাদের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ হাজার ৬৩০টি কনটেইনার নিলামের উপযুক্ত ছিল। এর মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৯৮টি কনটেইনার নিলামের মাধ্যমে এবং ৫৪টি কনটেইনারের পণ্য আইন অনুযায়ী ধ্বংস করে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬০০-এর বেশি মামলা সংক্রান্ত জট জড়িয়েছে, এসব ক্ষেত্রেও সব কনটেইনার নিলাম ও ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রবাসী পাঠকদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? বন্দরে পণ্য আটকে থাকার মতো জট দীর্ঘ হলে আমদানি-রপ্তানির খরচ বাড়ে, জরিমানাও পড়ে। সরাসরি প্রভাব পড়ে কাঁচামাল ও ব্যবসার ধারাবাহিকতায়—যে কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
সংক্ষেপে কয়েকটি প্রশ্ন
কত কনটেইউস কনটেইনার আটকে ছিল? বন্দরের তথ্যে গত ৩০ জুন পর্যন্ত ৯ হাজার ৩৩০ টিইইউস।
বন্দর কর্তৃপক্ষ কী উদ্যোগ নিয়েছে? এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে জরুরি চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত খালাস বা ধ্বংসের তাগিদ দিয়েছে।
সমস্যা শুধু কনটেইনারের নয়? কনটেইনার ছাড়াও এলসিএল, বাল্ক ও বিপজ্জনক কার্গোও ইয়ার্ডে পড়ে আছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









