ঢাকার একটি উচ্চপর্যায়ের সংলাপে সামনে এসেছে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় বিনিয়োগ-উপযোগী প্রকল্প নকশার নতুন দৃষ্টি। লক্ষ্য একটাই—জলবায়ু সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার পথে অর্থায়ন সংগ্রহ আরও দ্রুত করা।
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির সঙ্গে জলবায়ু যোগসূত্র

বৃহস্পতিবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘এক ট্রিলিয়ন ডলারের জলবায়ু-সহনশীল অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা’ শীর্ষক নীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। বিসিডিপি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি ইআরডির আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন সেলের ৩৩তম উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
জিসিএফ অর্থায়নে ধারণাপত্র তৈরির প্রস্তুতি
এ সংলাপটি আইসিএফসির সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মসূচির অংশ। অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ ও শিক্ষাবিদরা একত্র হন। মূলভাব হলো—পরবর্তী ধাপের জন্য অংশগ্রহণকারীরা যাতে বিশেষজ্ঞের দিকনির্দেশনায় গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড বা জিসিএফে বিনিয়োগ-উপযোগী ধারণাপত্র তৈরি করতে পারেন।
পরিকল্পনায় ব্যাংকযোগ্য প্রকল্পের গুরুত্ব
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে। তাই দেশকে জলবায়ু অর্থায়নের দিকে মনোযোগ বাড়াতে হবে। তিনি আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলে প্রস্তাব জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং বেসরকারি বিনিয়োগ টানতে শক্ত কাঠামোর আহ্বান জানান।
এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাংও জানান, জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়নে অংশীদারত্ব অব্যাহত থাকবে। বড় পরিসরে জলবায়ু অর্থায়নের জন্য ব্যাংকযোগ্য ও বিনিয়োগ-উপযোগী প্রকল্প নকশার গুরুত্বের কথাও তিনি জোর দিয়ে বলেন।
দুটি আলোচনা সভা—কৌশল ও অর্থায়নযোগ্যতা
নীতি সংলাপটি দুটি পূর্ণাঙ্গ আলোচনা সভায় পরিচালিত হয়। প্রথম সভায় কৌশলগত প্রকল্প ডিজাইনের জন্য জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। দ্বিতীয় সভায় অংশগ্রহণকারীদের সামনে প্রকল্পকে বাস্তবায়নযোগ্য ও অর্থায়নযোগ্য পথে নেওয়ার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রবাসীদের জন্য এর অর্থ কী
জলবায়ু অর্থায়নের গতি বাড়লে উপকূল, অবকাঠামো, কৃষি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় টেকসই প্রকল্পের সম্ভাবনা বাড়ে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ শক্ত হলে চাকরি ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতেও সহায়ক হয়—যা প্রবাসী আয় ও দেশের সামগ্রিক স্থিতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
প্রশ্ন: এ সংলাপের লক্ষ্য কী?
উত্তর: জলবায়ু সহনশীল অর্থনীতি গড়তে জিসিএফসহ জলবায়ু তহবিলে প্রস্তাব দেওয়ার জন্য বিনিয়োগ-উপযোগী প্রকল্প ডিজাইনের প্রস্তুতি জোরদার করা।
প্রশ্ন: কারা অংশ নেন?
উত্তর: নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, সুশীল সমাজ ও শিক্ষাবিদরা।
প্রশ্ন: পরবর্তী ধাপে কী হবে?
উত্তর: বিশেষজ্ঞের দিকনির্দেশনায় ধারণাপত্র তৈরি করতে আবাসিক জলবায়ু নেতৃত্ব ইনকিউবেশন ল্যাবের কার্যক্রম এগোবে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









