ঢাকার মানুষ যেন ভবিষ্যতেও নিরাপদভাবে পানি পায়—এ লক্ষ্যে সরকার এগোচ্ছে সাতটি কৃত্রিম জলাধারের পথে। ‘ঢাকা শহরে জরুরি পানি সরবরাহ’ প্রকল্পের সিদ্ধান্ত সামনে আসায় পানির ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন পরিকল্পনা শুরু হচ্ছে।
একনেকের সিদ্ধান্ত: আশুলিয়া থেকে গোড়ান চাটবাড়ি

গত ২৬ জুলাই একনেক সভায় এ প্রকল্প অনুমোদনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জলাধারগুলো গড়ে তোলা হবে আশুলিয়া, বেলাই বিল, মকস বিল, উত্তরখান, দাশেরকান্দি, কল্যাণপুর এবং গোড়ান চাটবাড়িতে।
ভবিষ্যৎ চাহিদা মাথায় রেখে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ
ঢাকা শহরের পানির ভবিষ্যৎ চাহিদা নিরূপণ করে সমাধান খোঁজা হচ্ছে এই উদ্যোগে। কৃত্রিম জলাধারে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের পাশাপাশি পানির পুনর্ব্যবহার করে অপচয় কমানোর ব্যবস্থাও থাকবে।
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানোই মূল লক্ষ্য
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এলাকায় পানি সরবরাহ সেবার সঙ্গে যুক্ত ওয়াসা বলছে, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও নগরায়ণের কারণে চাহিদা বাড়ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির দিকে কৌশলগত পরিবর্তন জরুরি হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যে না থাকায় ঘাটতি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ফলে সরকার এমন পরিকল্পনায় জোর দিচ্ছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে পানির সরবরাহ স্থিতিশীল থাকে।
পানি সরবরাহ শক্ত করতে বড় বিনিয়োগ
সাতটি জলাধার নির্মাণে মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে আশুলিয়ায় ১৩ হাজার ১৬৭ কোটি, বেলাই বিলে ৯ হাজার ২৭০ কোটি, মকস বিলে ৫ হাজার ৫৪৯ কোটি এবং উত্তরখানে ২ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। দাশেরকান্দিতে ২ হাজার ২৭৯ কোটি, কল্যাণপুর ও গোড়ান চাটবাড়িতে ৪৩০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।
প্রবাসীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
ঢাকায় পানির নিরাপত্তা ও সরবরাহ ব্যবস্থা শক্ত হলে শুধু নগরের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনই সহজ হবে না, শহর ঘিরে থাকা পরিবারগুলোর খরচ-চাপও কমে আসে। দূর থেকে স্বজনদের কথা ভাবলেও পানির স্থিতিশীলতা একটা বড় স্বস্তি।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
এই প্রকল্পে কোথায় জলাধার হবে?
আশুলিয়া, বেলাই বিল, মকস বিল, উত্তরখান, দাশেরকান্দি, কল্যাণপুর এবং গোড়ান চাটবাড়িতে।
কীভাবে পানি সংরক্ষণ করা হবে?
বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে অপচয় কমানোর ব্যবস্থা রাখা হবে।
ভূগর্ভস্থ পানি কেন কমাতে চায় সরকার?
কারণ ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ফলে পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com








