GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ: নিট প্রশ্নফাঁসের ধাক্কা

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ: নিট প্রশ্নফাঁসের ধাক্কা

পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা

ভারতে প্রশ্নফাঁস ঘিরে উত্তাপ থামতে না থামতেই ক্ষমতার চড়াই-উতরাই ছাপিয়ে গেল এক বড় ধাক্কা। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন।

সাত সপ্তাহের আন্দোলনের চাপ

পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা

পদত্যাগের দাবিতে মাঠে নেমেছিল ককরোচ জনতা পার্টি। সাত সপ্তাহ ধরে তারা আসছিল একটিই লক্ষ্য সামনে রেখে—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। আন্দোলনের শুরু থেকেই দাবি করা হয়, শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রশ্নফাঁসের দায়ও সরকারের নিজের কাঁধে নিতে হবে।

নিট প্রশ্নফাঁসের পর ক্ষোভ

গত মে মাসে ভারতের প্রধান মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে যখন বিতর্ক ছড়ায়, তখন থেকেই পরিস্থিতি জটলা হতে থাকে। প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা ভারতজুড়ে আন্দোলনে নামে। ককরোচ জনতা পার্টি তখনই সরাসরি বলে—এই নৈতিক দায় শিক্ষামন্ত্রীর নেওয়ারই কথা। তাদের দাবি ছিল পদত্যাগের সাথে আরও কিছু বিষয়ও যুক্ত।

আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে ছিল নিট প্রশ্নফাঁসের পর হতাশায় আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রূপি ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং যেসব আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া।

মোদী সরকারের ‘অনড়’ অবস্থার ভাঙন

২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর মোদী সরকারকে নানা সময়েই অনড় দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়। এমনকি বিতর্কিত নজির হিসেবে আগে কৃষক আন্দোলনের সময়ও দেখা যায়, শুরুতে সরকার ছাড় দিতে চায়নি। তবে ২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে কৃষকদের আন্দোলনের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত তিনটি আইন বাতিল হয়েছিল।

সেই সময় সরকার নরম হওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়—কৃষকদের বড় মঞ্চ, মহাসড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকা, গরম-শীত—সব মৌসুমে নিয়মিত কর্মসূচি এবং করোনাকালীনও বিক্ষোভ থামেনি। তাছাড়া পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে প্রাদেশিক নির্বাচন সামনে আসায় ভোটের অঙ্কও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিজেপি শঙ্কায় ছিল—এ কথাও আলোচনায় আসে।

ছাত্রজীবনের প্রশ্নফাঁস বিতর্কই শেষ করল পথ

এবারও সেই ধরনের ইস্যুই ফিরে আসে প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে। ছাত্রজীবনে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে রাজনীতির সামনের সারিতে আসা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পরিণতি শেষ পর্যন্ত সুখকর হয়নি বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে। নিট প্রশ্নফাঁস ঘিরে টানটান পরিস্থিতি গড়ানোর পরই পদত্যাগের পথ বেছে নিতে হয় তাকে।

এর আগে শুক্রবারও কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, কিছুতেই শিক্ষামন্ত্রী সরবেন না। কিন্তু ককরোচ জনতা পার্টির সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।

প্রবাসী পাঠকদের জন্য প্রশ্ন

  • ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও ভর্তি পরীক্ষায় স্বচ্ছতা—এ দুই দাবি কতটা একসঙ্গে বাস্তবায়ন সম্ভব?
  • প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপ আবারও কাজ করছে—এমন নজির কতদিন চলতে পারে?
  • এ ধরনের আন্দোলন শেষমেশ শিক্ষার্থীদের ক্ষতি ঠেকাতে পারবে কি?

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons