প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ব্যাংকিং নিরাপত্তা ও আস্থার বিষয়টি সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। সেই আস্থার প্রক্রিয়ায় একীভূতকরণের উদ্যোগে এবার ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের হাতে তুলে দেওয়া হলো।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব হস্তান্তর

এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের পর এবার ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া প্রশাসককে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাংকটির দায়িত্ব নতুন পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গভর্নরের উপস্থিতিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে ছিলেন।
আগে কোন ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণও হস্তান্তর হয়
এর আগে একীভূত হওয়ার তালিকায় থাকা সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল) ও এক্সিম ব্যাংকের প্রশাসক প্রত্যাহার করে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন ব্যবস্থাপনার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে তিনটির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতায় চলে আসে।
বাকি দুটি ব্যাংকেও ধাপে ধাপে রূপান্তর
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাকি দুটি ব্যাংকের ক্ষেত্রেও প্রশাসক প্রত্যাহার করে পর্যায়ক্রমে নতুন ব্যবস্থাপনার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। এই প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তিগত একীভূতকরণে সময় লাগতে পারে
যদিও প্রশাসনিক একীভূতকরণ সম্পন্ন হচ্ছে, প্রযুক্তিগতভাবে পুরোপুরি একীভূত হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কারণ আইটি ব্যবস্থা একীভূত না থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নস্ট্রো হিসাবের লেনদেন পুরোনো ব্যাংকের নামেই পরিচালিত হচ্ছে।
প্রযুক্তিগত সমন্বয় শেষ হলে পাঁচ ব্যাংকের পৃথক পরিচিতি বিলুপ্ত করে একক ব্র্যান্ড ও ব্যবস্থাপনার অধীনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম চালাবে।
এদিকে, একীভূতকরণের সিদ্ধান্তের পেছনে আর্থিক সংকট এবং আমানতকারীদের আস্থার সংকট—এই বাস্তবতাই বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স ও আমানত লেনদেনের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখতে এই ধাপগুলো সরাসরি প্রভাব ফেলে।
প্রশ্নোত্তর
এই হস্তান্তরের ফলে আমানতকারীরা কী পাবেন?
প্রশাসনিকভাবে নতুন ব্যবস্থাপনা যুক্ত হওয়ায় ব্যাংকের পরিচালনা কাঠামো একীভূত প্রক্রিয়ার মধ্যে এগোচ্ছে—যা সেবার ধারাবাহিকতা ও আস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সব ব্যাংক কি একই সময়ে একীভূত হবে?
প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তর ধাপে ধাপে হচ্ছে। প্রযুক্তিগত একীভূতকরণে সময় লাগতে পারে।
এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য লেনদেনে প্রভাব ফেলবে?
আইটি সমন্বয় শেষ হলে লেনদেন একক কাঠামোর অধীনে আরও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হওয়ার কথা আছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









