GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / তাপপ্রবাহে শ্রমিকের মজুরি ক্ষতি ৭৭ হাজার কোটি

তাপপ্রবাহে শ্রমিকের মজুরি ক্ষতি ৭৭ হাজার কোটি

তাপপ্রবাহে গরমে কাজের চাপ ও শ্রমিকদের কর্মদিবস ক্ষতির চিত্র

তাপপ্রবাহে কাজের চাপের সঙ্গে সরাসরি যোগ হচ্ছে আয় হারানোর হিসাব। ঘরের বাইরে বা ভেতরে কাজ—দু’ক্ষেত্রেই শ্রমিকরা কর্মদিবস হারাচ্ছেন, ফলে বছরে মজুরি ক্ষতি দাঁড়াচ্ছে ৭৭ হাজার কোটি টাকার সমান। প্রবাসী পরিবারের খরচ সামলাতে দেশে থাকা শ্রমজীবী মানুষের আয় কমে গেলে সেটার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে আরও বহুদূর।

বাইরে-ভেতরে কাজ, দু’ভাবেই ক্ষতি

তাপপ্রবাহে গরমে কাজের চাপ ও শ্রমিকদের কর্মদিবস ক্ষতির চিত্র

যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচণ্ড গরমে ঘরের বাইরে কাজ করা একজন শ্রমিক বছরে গড়ে ২৩ দশমিক ৭ কর্মদিবস হারান। আর ঘরের ভেতরে কাজ করা শ্রমিক হারান ১৩ দশমিক ৫ কর্মদিবস। এই ক্ষতি শুধু কাজের সময়ের সঙ্গে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং চিকিৎসাজনিত সমস্যাও আয় কমিয়ে দেয়। সব মিলিয়ে বছরে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৭ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি।

অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে

বাংলাদেশের মোট কর্মসংস্থানের বড় অংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে। গবেষণার ভিত্তি ছিল ঢাকার ১৭৫টি অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক পরিবার নিয়ে করা জরিপ। এর মধ্যে নির্মাণ, সড়কের কাজ ও রিকশা চালানোর মতো বাইরের কাজের পরিবার আছে, আবার পোশাকশিল্পের মতো ভেতরের কাজের পরিবারও অন্তর্ভুক্ত। গরমে কাজ বন্ধ রাখা কিংবা গতি কমে যাওয়ার অর্থ—আয় কমে যাওয়া।

কর্মদিবস কমলে মজুরিও কমে

গবেষণায় শ্রমিকের মজুরি ক্ষতির চিত্রও এসেছে। ঘরের বাইরে কাজ করা শ্রমিক বছরে গড়ে ১৪৮ দশমিক ৯ ডলার মজুরি হারান। ঘরের ভেতরে কাজ করা শ্রমিক হারান ৮৯ দশমিক ১ ডলার। ঢাকায় জীবনধারণযোগ্য মজুরি ধরা হয়েছে মাসে ৩০ হাজার ৪০৯ টাকা। কিন্তু বাইরের কাজ করা শ্রমিক পরিবার ওই আয়ের তুলনায় ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ পিছিয়ে থাকে। ভেতরের কাজ করা শ্রমিক পরিবার পিছিয়ে থাকে ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ। তাপজনিত আয় কমে যাওয়ার বিষয়টি যুক্ত হলে ঘাটতির হার আরও বাড়ে।

পরিবারের দৈনন্দিন জীবনে চাপ বাড়ে

তাপপ্রবাহের প্রভাব দেখা যায় শুধু কর্মক্ষেত্রে নয়, ঘরে ফেরার পরও। একই ঘরে ঠাসাঠাসি করে থাকা শ্রমিকদের জন্য রাতেও স্বস্তি আসে না—ফলে কাজের ক্লান্তি জমে যায়। আর শারীরিক অস্বস্তি বাড়লে চিকিৎসার চাপও তৈরি হয়। অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের আয় কাজের উপস্থিতি ও উৎপাদনক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় গরমের ধাক্কা তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে সরাসরি দুর্বল করে দেয়।

প্রবাসী পরিবারের জন্য বার্তাটা কী?

দেশে শ্রমজীবী মানুষের আয় কমলে প্রবাসী পরিবারগুলোর রেমিট্যান্স পরিকল্পনা থেকেও শুরু করে দৈনন্দিন ব্যয়ের বাস্তবতা—সব জায়গায় চাপ তৈরি হতে পারে। তাই গরমে কাজের ঝুঁকি কমাতে শ্রমবান্ধব ব্যবস্থা ও কার্যকর পরিকল্পনা জরুরি হয়ে পড়ছে।

যা জানা যাচ্ছে

যুক্তরাজ্যভিত্তিক আইআইইডি ও অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম—ওকাপ যৌথভাবে এই গবেষণা করেছে। জরিপের পর জাতীয় শ্রমশক্তি জরিপ এবং অঞ্চলভিত্তিক তাপমাত্রার তীব্রতার সঙ্গে ফল সমন্বয় করে ক্ষতির প্রাক্কলন করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার গবেষণাটি প্রকাশিত হবে।

প্রশ্ন-উত্তর

তাপপ্রবাহে ক্ষতির মূল কারণ কী?
গরমে কাজ বন্ধ রাখা বা কাজের গতি কমে যাওয়ায় কর্মদিবস ও আয় কমে যায়।

গবেষণার ভিত্তি কী ছিল?
ঢাকার ১৭৫টি অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক পরিবারের ওপর জরিপ ও কর্মক্ষেত্র-অবকাশ পর্যবেক্ষণ করা হয়।

এই ক্ষতি দেশের অর্থনীতিতে কী ইঙ্গিত দেয়?
শ্রমঘণ্টা ও উৎপাদনক্ষমতা কমলে শুধু ব্যক্তির আয় নয়, সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিও চাপে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons