GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / এলডিসি উত্তরণে প্রস্তুতিকাল বাড়বে: জাতিসংঘ সিদ্ধান্ত

এলডিসি উত্তরণে প্রস্তুতিকাল বাড়বে: জাতিসংঘ সিদ্ধান্ত

জাতিসংঘে এলডিসি উত্তরণ সংক্রান্ত প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে বৈঠক

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়ায় সময় বাড়ানোর বিষয়টি এখন আরও এক ধাপ এগোল। এলডিসি উত্তরণে প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।

ইকোসকের সর্বসম্মত সুপারিশ সাধারণ পরিষদে

জাতিসংঘে এলডিসি উত্তরণ সংক্রান্ত প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে বৈঠক

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ-সংক্রান্ত বৈঠকে (ইকোসক) সদস্যরাষ্ট্রগুলো সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশ অনুমোদন করেছে। এই সুপারিশের পর বিষয়টি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কাছে উঠছে।

ইকোসকের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও নেপালের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধটি সাধারণ পরিষদে বিবেচনার জন্য উপস্থাপনের পথ তৈরি হয়েছে। এর আগের ধাপে কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) দুই দেশের আবেদন পর্যালোচনা করে সাধারণ পরিষদে উপস্থাপনের মত দিয়েছে—সেই সুপারিশের ধারাবাহিকতাতেই ইকোসকের উদ্যোগ।

বাংলাদেশ চায় আরও তিন বছর প্রস্তুতি

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশের পক্ষে প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এলডিসি থেকে টেকসই এবং স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, প্রস্তুতি বাড়লে নীতিগত পদক্ষেপ ও সংস্কার বাস্তবায়ন এবং এলডিসি-উত্তর সময়ের প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে এগোনো সম্ভব হবে।

কখন সাধারণ পরিষদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৪ নভেম্বর ২০২৬-এর আগে সাধারণ পরিষদে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ওই দিনেই স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশ ও নেপালের উত্তরণ হওয়ার কথা।

সিদ্ধান্তের পর রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশের টেকসই উত্তরণের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

কেন সময় বাড়ানোর আবেদন

প্রসঙ্গত, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দিতে আনুষ্ঠানিক আবেদন করে বাংলাদেশ। সরকারের যুক্তি ছিল—সময়সীমা বাড়ানো হলে সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা, চলমান সংস্কার সংহত করা এবং স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজির (এসটিএস) অধীন অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম শেষ করার জন্য নীতিগত সুযোগ পাওয়া যাবে।

এছাড়া, এলডিসি উত্তরণে পাঁচ বছরের প্রস্তুতি সময় একের পর এক দেশি ও আন্তর্জাতিক সংকটে ‘গুরুতরভাবে ব্যাহত’ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে বৈশ্বিক সংকট হিসেবে কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ধীরগতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং তার প্রভাবে জ্বালানি ও খাদ্যবাজারে অস্থিরতার কথাও বলা হয়েছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এর মানে কী

এ ধরনের সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও নীতি বাস্তবায়নে। প্রস্তুতি পর্যাপ্ত হলে এলডিসি-উত্তর সময়ে প্রতিযোগিতা, সক্ষমতা এবং ধারাবাহিক সংস্কার টিকিয়ে রাখা সহজ হয়—এটাই এখন আলোচনার কেন্দ্র।

প্রশ্ন: প্রস্তুতিকাল কত বছর বাড়ানোর সুপারিশ হয়েছে?

উত্তর: তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ নিয়ে ইকোসকের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রশ্ন: চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কে নেবে?

উত্তর: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।

প্রশ্ন: কবে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা?

উত্তর: ২৪ নভেম্বর ২০২৬-এর আগে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons