চামড়া শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক চালু করলো চামড়ায় প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম। সার্কুলার অনুযায়ী, তিন বছরের জন্য গঠিত ২ হাজার কোটি টাকার এই তহবিলের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা তুলনামূলক কম খরচে ঋণ পেতে পারবেন। প্রবাসী আয়-প্রবাহের সঙ্গে যুক্ত অর্থনীতি এবং রপ্তানিমুখী খাত—দুই দিক থেকেই এটা কাজে লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন তহবিল

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ (বিআরপিডি) একটি সার্কুলার জারি করেছে। নতুন স্কিমটি তিন বছর কার্যকর থাকবে এবং তহবিলটি আবর্তনযোগ্য হিসেবে পরিচালিত হবে।
এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে নতুন ট্যানারি স্থাপন, বিদ্যমান কারখানার আধুনিকায়ন, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জন এবং চামড়া শিল্পের সহায়ক পণ্য উৎপাদনে।
সুদের হার কেমন—গ্রাহক পাবেন ৭ শতাংশে
স্কিমের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ দেবে ৪ শতাংশ সুদে। ফলে উদ্যোক্তাদের ঋণের খরচ কমে আসার সুযোগ তৈরি হয়।
কত টাকা পর্যন্ত ঋণ—খাতভেদে সীমা
সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রকল্পভেদে সর্বোচ্চ ঋণসীমা নির্ধারিত আছে। নতুন ট্যানারি, কোল্ড স্টোরেজ ও বর্জ্য পরিশোধনাগার নির্মাণে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে।
নতুন চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন কারখানা স্থাপনে সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা এবং আধুনিকায়নের জন্য সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা ঋণের সুযোগ রয়েছে। চলতি মূলধনের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা এবং সহায়ক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন মিলবে।
যাদের ঋণ হবে না ও শর্ত মানতে হবে
কিছু শর্ত পূরণ না করলে সুবিধা মিলবে না। সার্কুলারে বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণগ্রহীতা, একই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকারের অন্য কোনো পুনঃঅর্থায়ন/বিশেষ তহবিলের সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান, এবং কাঁচা চামড়া, ক্রাস্ট বা ফিনিশড লেদার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এই স্কিমের আওতায় ঋণ পাবে না।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আছে—ঋণ গ্রহণের দুই বছরের মধ্যে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে এলডব্লিউজি সনদ অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের অন্তত ১০ শতাংশ যেন সৌরশক্তি থেকে নিশ্চিত করা হয়। শর্তগুলো মানতে না পারলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন বা বিশেষ তহবিল থেকেও ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে না।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রবাসী পাঠকদের জন্য গুরুত্ব: চামড়া ও চামড়াজাত শিল্প রপ্তানিনির্ভর। বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়—ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ ও সার্বিক অর্থনৈতিক গতি পেতে পারে।
চর্চিত প্রশ্ন
কে ঋণ নিতে পারবেন?
তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে যোগ্য উদ্যোক্তারা—তবে খেলাপি বা নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠান নয়।
এলডব্লিউজি সনদ কবে লাগবে?
ঋণ গ্রহণের দুই বছরের মধ্যে সনদ অর্জন করতে হবে।
সৌরশক্তির শর্ত কেন?
পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত হিসেবে সার্কুলারে বিদ্যুৎ ব্যবহারের অংশ সৌরশক্তি থেকে নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









