পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ–মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা হলো। বৈঠকে মুক্ত বাণিজ্য, বিনিয়োগের পথ, এবং প্রবাসী শ্রমিকদের আর্থিক সুবিধা সহজ করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও অর্থনৈতিক সমন্বয়ের আলোচনা

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মালয়েশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও আর্থিক ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়। এর মধ্যে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনাও ছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা ও ইসলামী অর্থায়ন
দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে। পাশাপাশি ইসলামী অর্থায়নের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ফলে ব্যাংকিং ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
অর্থপাচার প্রতিরোধ ও সম্পদ পুনরুদ্ধার
বৈঠকে অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারের দিকেও জোর দেওয়া হয়। এ ধরনের উদ্যোগ দু’দেশের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়ক হবে।
প্রবাসী আমানত উত্তোলন সহজ ও হালাল খাতে অর্থায়ন
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল—দেশে ফিরে যাওয়া বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের মালয়েশিয়ার ব্যাংকে রক্ষিত আমানত উত্তোলন সহজীকরণ। একই সঙ্গে হালাল শিল্পে অর্থায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ এবং দুই দেশের বিনিয়োগ উদ্যোগ বিস্তৃত করার প্রসঙ্গও উঠে আসে।
খাজানাহ ও কৌশলগত বিনিয়োগের সম্ভাবনা
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল ‘খাজানাহ’র সঙ্গে সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের প্রস্তাবিত তহবিলে মালয়েশিয়ার কৌশলগত বিনিয়োগের সম্ভাবনাও আলোচ্য ছিল। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা আরও সম্প্রসারণে উভয় পক্ষ নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতি স্বাগত জানান এবং আলোচ্য খাতগুলোতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহের কথাও বলেন। মালয়েশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং রয়্যাল মালয়েশিয়ান কাস্টমস বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষে উপ-হাইকমিশনার সাহানারা মনিকা, প্রথম সচিব (বাণিজ্য) প্রণব কুমার ঘোষ এবং তৃতীয় সচিব (রাজনৈতিক) মোহাম্মদ তানজিম হোসাইন অংশ নেন।
প্রবাসীদের জন্য কেন জরুরি? ব্যাংকে রক্ষিত আমানত উত্তোলন সহজ হলে দেশে ফেরা প্রক্রিয়া সহজ হয়। আর বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সমন্বয় জোরদার হলে ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও বাণিজ্য সুযোগও বিস্তৃত হতে পারে।
সংক্ষেপে জেনে নিন
কী নিয়ে বৈঠক হলো? মুক্ত বাণিজ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহযোগিতা, ইসলামী অর্থায়ন, অর্থপাচার প্রতিরোধ, প্রবাসী আমানত উত্তোলন সহজীকরণ, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতে সম্ভাবনা নিয়ে।
কারা অংশ নেন? মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা।
ফল কী হতে পারে? দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং প্রবাসীদের আর্থিক সুবিধা সহজ করার উদ্যোগ ত্বরান্বিত হওয়া।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









