GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / মার্জিন ঋণে নতুন নিয়ম ৫০ শতাংশ ইক্যুইটি বাধ্যতামূলক

মার্জিন ঋণে নতুন নিয়ম ৫০ শতাংশ ইক্যুইটি বাধ্যতামূলক

পুঁজিবাজারে মার্জিন ঋণ ও ইক্যুইটির নিয়ম বোঝানো হচ্ছে

পুঁজিবাজারে যারা মার্জিন ঋণে শেয়ার কেনেন, তাদের জন্য নিয়মটা এখন থেকে আরও কড়াভাবে বাঁধা। বিএসইসির সংশোধিত মার্জিন বিধিমালায় মার্জিন অর্থায়নের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ ইক্যুইটি হিসেবে বজায় রাখতে হবে; কমে গেলে মার্জিন কল, আর ২৫ শতাংশের নিচে গেলে নোটিশ ছাড়াই শেয়ার বিক্রির ক্ষমতা থাকবে।

ইক্যুইটি বনাম মার্জিন: ৫০ শতাংশ বাধ্যতামূলক

পুঁজিবাজারে মার্জিন ঋণ ও ইক্যুইটির নিয়ম বোঝানো হচ্ছে

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, গ্রাহকের ইক্যুইটি ও মার্জিন অর্থায়নের অনুপাত ১:১-এর বেশি করা যাবে না। অর্থাৎ নিজের ইক্যুইটি যত, মার্জিন ঋণও তার সমান অংকের বেশি হবে না। এরপরও হিসাবের ইক্যুইটি অন্তত ৫০ শতাংশ পর্যায়ে রাখতে হবে।

মার্জিন কল ও সময় বেঁধে দেওয়া

যদি কোনো কারণে ইক্যুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তাহলে গ্রাহককে তাৎক্ষণিক মার্জিন কল দিতে হবে। এটি লিখিতভাবে অথবা গ্রাহকের ই-মেইল ও নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে বার্তার মাধ্যমে জানাতে হবে; প্রয়োজনে ফোনেও যোগাযোগ করা যাবে।

তবে মার্জিন কল দেওয়ার তিন ট্রেডিং দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দিয়ে ইক্যুইটি ৫০ শতাংশে তুলতে না পারলে গ্রাহকের নামে নতুন করে মার্জিন অর্থায়ন দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি হিসাব সমন্বয়ের জন্য দরকারি সংখ্যক সিকিউরিটিজ বিক্রির ব্যবস্থাও থাকছে।

২৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে নোটিশ ছাড়াই বিক্রি

আরেক ধাপ কঠোর হচ্ছে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে। ইক্যুইটি যদি ২৫ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তাহলে গ্রাহককে কোনো নোটিশ না দিয়েই হিসাব সমন্বয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিকিউরিটিজ বাধ্যতামূলকভাবে বিক্রি করতে হবে। ফলে মার্জিনে থাকা হিসাবগুলোর বাস্তব ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সময় কমে যাচ্ছে।

কোন শেয়ারে মার্জিন হবে, কোনটায় হবে না

নতুন শর্তে স্পষ্ট করা হয়েছে—স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত শেয়ার ছাড়া অন্য কোনো সিকিউরিটিতে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। এছাড়া নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির সিকিউরিটিজ এবং এসএমই, এটিবি ও ওটিসি প্ল্যাটফর্ম বা বোর্ডে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ মার্জিন ঋণের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

মার্জিন নেওয়ার সময় গ্রাহকের হিসাবে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ন্যূনতম বিনিয়োগ থাকার শর্তও নির্ধারিত হয়েছে। আবার মার্জিন অর্থায়নের অযোগ্য সিকিউরিটি গ্রাহক নিজস্ব অর্থে কিনলেও সেটি ইক্যুইটি হিসেবে গণ্য হবে না

মূল্যায়নেও কড়াকড়ি

শেয়ারের ক্ষেত্রে পিই রেশিও, শেয়ারপ্রতি আয় ও জীবন বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে আলাদা সূচক বিবেচনার কথাও বিধিমালায় এসেছে। এতে করে এমন শেয়ারে মার্জিন ঋণ সীমিত হবে—যেখানে মূল্যায়ন ঝুঁকিপূর্ণ বলে ধরা হচ্ছে।

প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ? যারা বাংলাদেশে পুঁজিবাজারে মার্জিনে ট্রেড করেন, তাদের ইক্যুইটি পর্যবেক্ষণ না করলে ঝুঁকি দ্রুত বাড়তে পারে—বিশেষ করে ২৫ শতাংশের নিচে নামলে নোটিশ ছাড়াই বিক্রির বিষয়টি বাস্তবভাবে দাম ও লেনদেনের ধরনকে প্রভাবিত করবে।

প্রশ্নোত্তর

মার্জিন ঋণে সর্বোচ্চ কতটা নেওয়া যাবে?
গ্রাহকের ইক্যুইটির চেয়ে বেশি মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না; অনুপাত ১:১-এর বেশি করা যাবে না।

ইক্যুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নামলে কী হবে?
তাৎক্ষণিক মার্জিন কল দিতে হবে, এবং তিন ট্রেডিং দিনের মধ্যে সমন্বয় না হলে নতুন মার্জিন অর্থায়ন বন্ধ হতে পারে।

ইক্যুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নামলে নোটিশ থাকবে?
না। হিসাব সমন্বয়ের জন্য প্রয়োজনীয় শেয়ার নোটিশ ছাড়াই বিক্রি করা হবে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons