প্রথাগত খাবারের বাজার ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় সমস্যা শুধু দাম বাড়া নয়—কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, অথচ ভোক্তা বেশি দামে কিনছেন। চালের মতো পণ্যে কৃষক পর্যায় থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার চিত্রটাই উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু।
কৃষক-ভোক্তা—দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত

অর্থনীতির হিসাবে যেটা হওয়া উচিত, সেটার উল্টোটা ঘটছে। ভোক্তা বেশি দাম দিয়ে চাল কিনছেন। অন্যদিকে উৎপাদক কৃষকও পাচ্ছেন না ন্যায্যমূল্য। ফলে একই বাজারব্যবস্থায় কৃষক ও ভোক্তা—দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হন, আর সবচেয়ে লাভবান হন মধ্যবর্তী কোনো অংশ।
চাল থেকে শুরু করে সবখানেই দামচাপ
শুধু চাল নয়; মসুর ডাল, পেঁয়াজ, আলু, কাঁচা মরিচ, বেগুন, ডিম, ব্রয়লার মুরগি, গরুর মাংস ও মাছ—অনেক খাদ্যপণ্যের দামই উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, খাদ্যপণ্যের মূল্যশৃঙ্খলে শুধু ব্যয় নয়, অস্বাভাবিক মুনাফাও যোগ হচ্ছে।
কৃষিবিমুখ হওয়ার ঝুঁকি খাদ্যনিরাপত্তায়
কৃষক বরাবরই বাজারের সবচেয়ে দুর্বল অংশ। উৎপাদনের সময় আবহাওয়া, রোগবালাই, সারের দাম, শ্রমিকের মজুরি ও ঋণের চাপ সামলাতে হয়। কিন্তু ফসল বাজারে তোলার পর দর নির্ধারণের ক্ষমতা তার হাতে থাকে না। সংরক্ষণব্যবস্থা ও সহজ বিপণন সুবিধার অভাবে অনেক সময় কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হতে হয়।
ফলে কৃষকের পরিশ্রমের প্রকৃত মূল্য অন্যরা ভোগ করেন। দীর্ঘমেয়াদে এটি কৃষিবিমুখতা বাড়ায় এবং কৃষিজমির পরিমাণ কমার মতো ঝুঁকিও তৈরি করে। খাদ্যনিরাপত্তার জন্য এটি সরাসরি হুমকি।
লজিস্টিক ব্যয় বাস্তব সমস্যা, তবে একমাত্র ব্যাখ্যা নয়
বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী লজিস্টিক ব্যয়কে মূল্যস্ফীতির বড় কারণ হিসেবে ধরেছেন। দুর্বল সড়কব্যবস্থা, যানজট, কোল্ড স্টোরেজের অভাব, অদক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থা ও পরিবহন ব্যয়—সব মিলিয়েই পণ্যের দাম বাড়ে। তবে চালের মতো পণ্যে দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার সম্পূর্ণ চিত্র শুধু লজিস্টিক ব্যয় দিয়ে বোঝানো যায় না।
প্রথাগত বাজারব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর সময়
ভোক্তা যেন যুক্তিযুক্ত দামে পণ্য পান এবং কৃষক যেন ন্যায্যমূল্য পান—এই দুই বাস্তবতা একসাথে মেলাতে হলে মূল্যশৃঙ্খলে মধ্যবর্তী ব্যয় ও অস্বাভাবিক লাভের জায়গাগুলো কমাতে হবে। একই সঙ্গে সংরক্ষণ, বিপণন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কার্যকর সংস্কার দরকার। নইলে দাম বাড়ার চাপ শুধু মানুষের জীবনযাপনকে ভারীই করবে, কৃষি টেকসইও থাকবে না।
প্রবাসী পাঠকের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
দেশে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে প্রবাসী পরিবারের খরচেও সরাসরি চাপ পড়ে। ন্যায্যমূল্যভিত্তিক বাজার নিশ্চিত না হলে বৈদেশিক আয় কতটা হলেও দৈনন্দিন ব্যয় সামলানো আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন-উত্তর
প্রশ্ন: কৃষকের ক্ষতি কেন হয়?
উৎপাদনের পর দর নির্ধারণের ক্ষমতা কম থাকে, সংরক্ষণ ও বিপণন সুবিধাও সীমিত—তাই অনেক সময় কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন।
প্রশ্ন: দাম বাড়ার কারণ কি শুধু লজিস্টিক ব্যয়?
লজিস্টিক ব্যয় একটি বড় কারণ হলেও চালের মতো পণ্যে কৃষক-ভোক্তার ব্যবধান যে মাত্রায় দেখা যাচ্ছে, সেটি শুধু পরিবহন ব্যয় দিয়ে পুরোপুরি বোঝানো কঠিন।
প্রশ্ন: কীভাবে লাভের ব্যবধান কমানো যায়?
মূল্যশৃঙ্খলে মধ্যবর্তী পর্যায়ের অস্বাভাবিক লাভ কমাতে সরবরাহ, সংরক্ষণ এবং বিপণন ব্যবস্থায় কার্যকর সংস্কার দরকার।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









