বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থাকে—চারা মাটিতে নামার পরও সেটি বাঁচে কি না। কুষ্টিয়ার চিকিৎসক এ এস এম মুসা কবিরের ‘স্মাইল ফর অল’ সেই ফাঁকটা ঘুচিয়ে টেকসই পরিচর্যার পথ দেখাচ্ছে।
চারা থেকে পূর্ণাঙ্গ গাছ, একটানা তদারকি

মুসা কবিরের উদ্যোগ শুধু ছবি তোলার মতো অনুষ্ঠানে সীমিত নয়। চারা দেওয়ার আগে প্রশিক্ষণ দিয়ে সঠিকভাবে রোপণ, সার-মাটির নিয়ম এবং পরিচর্যার কৌশল শেখানো হয়। ফলে মাঠে গিয়ে কাজ থেমে যায় না।
এদিকে গবাদিপশুর হাত থেকে নতুন চারা রক্ষায় খুঁটি ও পলিথিন পেঁচিয়ে সুরক্ষার ব্যবস্থাও করা হয়। কোনো গাছ মারা গেলেও সেখানে নতুন চারা রোপণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিই উদ্যোগটিকে বাস্তবসম্মত করে তোলে।
যতটা কাজ, ততটাই ধারাবাহিকতা
খবরে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে তাঁর উদ্যোগে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়েছে। তরুণদের সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত পরিচর্যা করার পাশাপাশি ‘প্ল্যান্ট হাব’ স্থাপন করে আবেদনপত্রের মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী চারা বিতরণও করা হয়।
বৃক্ষরোপণের সঙ্গে স্বাবলম্বীর বার্তা
শুধু পরিবেশের কাজেই তিনি থামেননি। স্থানীয় নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগও নিয়েছেন। গত এক বছরে তাঁর উদ্যোগে বহু নারী সেলাই প্রশিক্ষণ পেয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনায় বাস্তব মডেলের ছোঁয়া
পরিবেশকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহারে বৃক্ষরোপণের গুরুত্বও উঠে এসেছে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে বড় পরিসরে বৃক্ষরোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণের পরিকল্পনার কথাও জানা গেছে।
তবে বড় কোনো লক্ষ্য ঘোষণা হলেই টেকসই ফল নিশ্চিত হয় না। কেবল আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্যে পড়ে গেলে উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে—এ আশঙ্কাও মাথায় আসে। তাই স্বপ্রণোদিত উদ্যোগগুলোর মতো চারা রোপণের পর টেকসই তদারকি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা যদি পরিকল্পনায় যুক্ত হয়, তাহলে পরিবেশের লাভটা বেশি হবে। সমাজের বৃহৎ অংশের অংশগ্রহণ না থাকলে সফলতা কঠিন।
প্রবাসী পরিবারগুলোর কাছেও এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জলবায়ু বিপর্যয়, খাদ্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের সংকট—এসবের প্রভাব শেষ পর্যন্ত সবার জীবনেই পড়ে। টেকসই বৃক্ষরোপণ মানে শুধু গাছ নয়, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথাও।
প্রশ্নোত্তর
এই উদ্যোগের মূল আলাদা দিক কী?
চারা দেওয়ার পর সঠিক প্রশিক্ষণ, সুরক্ষা, নিয়মিত পরিচর্যা এবং গাছ মারা গেলে নতুন করে রোপণের ব্যবস্থা।
প্রবাসীদের জন্য কেন বিষয়টি প্রাসঙ্গিক?
জলবায়ু ও পরিবেশের পরিবর্তন খাদ্য, স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে—তাই টেকসই পদক্ষেপ জরুরি।
সরকারি পরিকল্পনা কীভাবে কাজে লাগানো যায়?
স্বেচ্ছাসেবীদের বাস্তব মডেল থেকে পরিচর্যার ধারাবাহিকতা শিখে রক্ষণাবেক্ষণ-কেন্দ্রিক পরিকল্পনা শক্ত করা।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









