রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদানের চিত্রে বড় অনিয়ম নয়, তবে অনেকে ভোট দেননি—এমন সিদ্ধান্তই সামনে এসেছে। অসুস্থতা, দলীয় অবস্থান, বিদেশে চিকিৎসা এবং নির্বাচন নিয়ে আপত্তি—এই মিলিয়ে ছয়জন সংসদ সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি।
যেভাবে ভোটগ্রহণ ও ফল ঘোষণা

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে ভোটগ্রহণ দুপুর ২টা ১০ মিনিটে শুরু হয়ে বিকেল ৫টায় শেষ হয়।
অসুস্থতা ও বিদেশে চিকিৎসা—কেন ভোট পড়ল না
ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অসুস্থতার কারণে বিএনপির তিনজন সংসদ সদস্য ভোট দিতে পারেননি। মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পূর্বানুমতি নিয়ে দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকলেও আগের তুলনায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশাও ভোটে অংশ নেননি। গুরুতর অসুস্থতার কারণেই তিনি নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেননি। কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচিত সাবেক মন্ত্রী ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুকও ভোট দিতে পারেননি; তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন।
রুমিন ফারহারার তিন আপত্তি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি। তিনি ভোট না দেওয়ার পক্ষে তিনটি কারণ তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্য—রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে তিনি অর্থহীন মনে করেছেন, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটাকে নির্বাচন বলা যায় না এবং এই প্রক্রিয়াটিকে তিনি মনোনয়ন হিসেবে দেখছেন।
দল থেকে বহিষ্কার ও বিদেশে অবস্থান—আরও দুই প্রভাব
ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ভোট দেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২২ জুলাই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় বহিষ্কার থাকা সত্ত্বেও তিনি চাইলে ভোট দিতে পারতেন—এ বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
আরেকজন হিসেবে খেলাফত মজলিস মনোনীত মুফতি মো. আবুল হাসান ভোট দেননি। বিদেশে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে তার দলের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের।
প্রবাসী ভোটারদের জন্য বার্তা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধারায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এই ধরনের ভোট-বিরতিগুলো প্রবাসী পরিবারগুলোর দৈনন্দিন বাস্তবতাকেও ছুঁয়ে যায়। সিদ্ধান্তের বৈধতা, রাজনৈতিক আস্থা এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক বার্তার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে—বিশেষ করে যারা উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখেন।
প্রশ্ন-উত্তর
১) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট কতজন ভোট দিয়েছেন?
ভোট দিয়েছেন ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য।
২) ভোট না দেওয়ার বড় কারণ কী ছিল?
অসুস্থতা ও বিদেশে চিকিৎসা—এটাই প্রধান কারণ হিসেবে এসেছে।
৩) রুমিন ফারহানার আপত্তি কী নিয়ে?
তিনি নির্বাচনকে অর্থহীন মনে করা, অনিশ্চয়তা না থাকা এবং মনোনয়নের মতো মনে হওয়াসহ কারণ বলেছেন।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









