GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার কারণগুলো জানুন

প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার কারণগুলো জানুন

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যভিত্তিক প্রবাসী আয়ের প্রবণতা

টানা ছয় মাসের পর প্রবাসী আয় কমে যাওয়ায় টান পড়েছে ডলারের জোগানে। ফলে জুলাইয়ে প্রবাসী আয় তিন বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি থেকে নিচে নেমেছে—এমন পরিস্থিতি টাকার লেনদেন, আমদানি ব্যয় এবং সামনের অর্থনৈতিক চাপ—সবকিছুর সঙ্গেই সরাসরি সম্পর্ক রাখে।

জুলাইয়ে প্রবাসী আয় কমার ধারা

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যভিত্তিক প্রবাসী আয়ের প্রবণতা

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী জুলাই মাসে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ২৮৬ কোটি ডলার। এর আগে গত জুনেও প্রবাসী আয় প্রবাহ ছিল প্রায় ২৮২ কোটি ডলার। এর আগে টানা ছয় মাস প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ডলার বা তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল। এই হঠাৎ কমে যাওয়াই এখন চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাংকিং খাতে।

আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধি, কিন্তু টান

যদিও চলতি বছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন—আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার—তবু টানা বেশি থাকার পর কমে আসার প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকারদের ভাষায়, রেমিট্যান্স ডলার জোগানের বড় উৎস হওয়ায় ধারাবাহিকতা টেকানোই মূল চ্যালেঞ্জ।

ডলারের দাম বাড়া ও তদারকি—একই সঙ্গে কাজ করছে

প্রবাসী আয় সংগ্রহের ক্ষেত্রে দেশের বাজারে ডলারের দাম কিছুটা বেড়েছে। ব্যাংকগুলোর বেশি দামে প্রবাসী আয়ের ডলার কেনার প্রক্রিয়া চলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকিও বাড়ানো হয়। এই সমন্বয়টা সাময়িকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব ফেলছে বলে ব্যাংক কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, তদারকি ও বাজারদরের সমন্বয় যতদিন চলবে, ততদিন প্রবাহ কিছুটা কমতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবও রয়েছে

এদিকে মধ্যপ্রাচ্য এলাকায় সংকটের প্রেক্ষাপটে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে। প্রবাসীরা যে হারে অর্থ পাঠান, সেই অর্থ বিনিময়ের বাস্তব খরচ ও বাজারের দামের ওঠানামা—দুইটাই রেমিট্যান্সের গতি বদলে দিতে পারে। তাই অর্থনীতির সম্ভাব্য ধাক্কা সামলাতে রিজার্ভ ধরে রাখার প্রয়োজনের কথাও অর্থনীতিবিদরা তুলে ধরছেন।

রিজার্ভ ধরে রাখা, সুদহার নিয়ে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি

শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদদের পরামর্শে বলা হয়েছে, সংকট কতটা দীর্ঘ হবে তা এখনো পরিষ্কার নয়। বৈশ্বিক চাপ বাড়লে রিজার্ভ ও ডলারের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। সে কারণে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়ার কথা আছে। পাশাপাশি সুদহার কমানোর বিষয়েও এখনই তাড়াহুড়া না করার যুক্তি এসেছে; তবে চাপ কমে গেলে বিনিয়োগ বাড়াতে সুদহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। প্রসঙ্গত, নীতি সুদহার কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক—যা ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে।

প্রবাসীদের জন্য কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

প্রবাসী আয় কমে গেলে দেশের ডলারের বাজারে চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে। আর ডলারের চাপ মানেই আমদানি ব্যয়, ব্যবসায়িক খরচ এবং দৈনন্দিন দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তাই রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল রাখা—প্রবাসী পরিবার থেকে শুরু করে পুরো অর্থনীতির স্বার্থে জরুরি।

দ্রুত প্রশ্নোত্তর

প্রবাসী আয় কমা মানে কি পুরোপুরি কমে যাচ্ছে?
তথ্য অনুযায়ী আগের বছরের তুলনায় জুলাইয়ে আয় বেড়েছে। তবে টানা বেশি থাকার পর কমে আসা প্রবণতাটা মূল সতর্কতার জায়গা।

ডলারের দাম বাড়ার সঙ্গে রেমিট্যান্সের সম্পর্ক কী?
ডলারের দাম বাড়লে প্রবাসী আয়ের ডলার কেনার প্রক্রিয়ায় তদারকিও বাড়ে। এতে প্রবাহ সাময়িকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকট কেন প্রবাসী আয়ে প্রভাব ফেলতে পারে?
সংকটের কারণে বাজারে ডলারের দাম ও অর্থ পাঠানোর বাস্তব খরচ-চাপ বদলাতে পারে, ফলে রেমিট্যান্সের গতি কমতে পারে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons