কাতারের দোহার বাংলাদেশ দূতাবাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদ দিবস পালিত হয়েছে। রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কাতার প্রবাসী বাঙালিরা একসঙ্গে শ্রদ্ধা জানান, স্মরণ করেন আত্মত্যাগের ইতিহাস।
কোরআন তেলাওয়াত, শহীদের স্মরণে নীরবতা

অনুষ্ঠানের শুরু হয় পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
মোনাজাত ও বাণী পাঠ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের স্বাভাবিক ও সুস্থজীবন এবং দেশ ও জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
আলোচনা ও প্রবন্ধ উপস্থাপন
মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে পাঠানো ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এরপর কাতারস্থ নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. হাসান মাহমুদ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি ও গুরুত্ব আরোপ করে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বৈষম্যমুক্ত, সুখী ও সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবার একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রেমিট্যান্সে জোর, বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান
রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খান শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা মানবতার ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। পাশাপাশি তিনি জানান, হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে জাতির সামনে যে ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে তা জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিতে হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে কাতার প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করেন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের সাথে বৈষম্যহীন, ন্যায় ও সাম্যভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়তে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানান।
কারা উপস্থিত ছিলেন
অনুষ্ঠানে জুলাইযোদ্ধাসহ কাতার প্রবাসী বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের সদস্য, কমিউনিটির সদস্য, রেমিট্যান্সযোদ্ধা, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সদস্য, বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল ও কলেজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থী এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রবাসীদের জন্য বার্তা
এ ধরনের আয়োজন প্রবাসী বাংলাদেশিদের আবেগের সঙ্গে ইতিহাসকে যুক্ত করে, আবার একই সঙ্গে দায়িত্ববোধ তৈরি করে—দেশের প্রতি অবদান রাখতে উৎসাহ দেয়, বিশেষ করে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে।
প্রশ্ন-উত্তর
অনুষ্ঠানটি কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
কাতারের দোহায় বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে।
অনুষ্ঠানে কী কী কার্যক্রম ছিল?
কোরআন তেলাওয়াত, এক মিনিট নীরবতা, মোনাজাত, বাণী পাঠ, ডকুমেন্টারি ও আলোচনা।
রাষ্ট্রদূত কী বিষয়ে বিশেষভাবে জোর দেন?
শহীদের স্মৃতি রক্ষা ও জাতীয় ঐক্যের পাশাপাশি বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর আহ্বানে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









