মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়া শ্রমিকদের পাওনা আদায়ে বড় সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। ২০২৫ সালে হাজারো দাবির বিপরীতে বিপুল অংকের ক্ষতিপূরণ ও ভাতা আদায় হয়েছে—যা প্রবাসী পরিবারগুলোর দৈনন্দিন নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
২০২৫ সালে কত দাবি নিষ্পত্তি হলো

২০২৫ সালে ২ হাজার ৮৫৭টি দাবির বিপরীতে মোট ১ কোটি ১৪ লাখ ১৮ হাজার ২৯১ দশমিক ৩১ রিঙ্গিত ক্ষতিপূরণ ও বিভিন্ন ভাতা আদায় করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
২০২৬ সালের প্রথমার্ধেও জোরালো অগ্রগতি
এর পাশাপাশি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আরও ১ হাজার ৩৮১টি দাবির বিপরীতে ৫৮ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮ দশমিক ৭৬ রিঙ্গিত, অর্থাৎ প্রায় ১৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
অসুস্থতা-অক্ষমতায় ক্ষতিপূরণে বেশি নজর
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন কর্মস্থলে আহত হয়ে সাময়িকভাবে কর্মক্ষমতা হারানো শ্রমিকরা। ২০২৫ সালে অস্থায়ী অক্ষমতা ভাতার আওতায় ২ হাজার ২৯৩টি দাবির বিপরীতে প্রায় ৩৫ লাখ রিঙ্গিত এবং স্থায়ী অক্ষমতা ভাতায় ১৫৫টি দাবির বিপরীতে প্রায় সাড়ে ৩৫ লাখ রিঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
দাফন ব্যয় এবং মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচও পরিশোধ করা হয়েছে বলে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া নির্ভরশীলদের ভাতাও নিয়মিতভাবে হিসাবের আওতায় আনা হয়েছে।
হাইকমিশনের সমন্বয় ও শ্রম উইংয়ের কাজ
হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্ষতিপূরণ শুধু আর্থিক সহায়তা নয়; মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগেরও অংশ। দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর পর অনেক শ্রমিক ও পরিবারের সদস্যরা আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে না জানায় প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। সেই ফাঁক কমাতে হাইকমিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করছে।
কনস্যুলার সহায়তা, আইনি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা দ্রুত পৌঁছে দিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়ার কথাও এসেছে। শ্রম উইং বকেয়া বেতন, ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য দাবি নিষ্পত্তিতে নিয়মিত কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব শ্রমিক আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানেন না, তাদের সচেতন করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রবাসী কমিউনিটির প্রত্যাশা
প্রবাসী কমিউনিটি নেতারা বলছেন, ভাষাগত সীমাবদ্ধতা, নথিপত্রের জটিলতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণার কারণে অনেক শ্রমিক নিজের প্রাপ্য দাবি করতে পারেন না। তাই আইনি সহায়তা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তিতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ দরকার।
এ উদ্যোগ প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্য তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ কর্মস্থলের দুর্ঘটনা বা জটিল পরিস্থিতির পর ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না পেলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বেড়ে যায়। এখন হাইকমিশনের সক্রিয় তৎপরতা সেই ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখছে।
প্রশ্ন-উত্তর
প্রবাসী শ্রমিকরা কীভাবে উপকার পাবেন?
দাবি অনুসরণ, আইনি পরামর্শ ও কর্মকর্তাদের তদারকির মাধ্যমে প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ আদায়ে সহায়তা করা হচ্ছে।
কোন ধরনের দাবিগুলো বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে?
কর্মস্থল দুর্ঘটনায় সাময়িক বা স্থায়ী অক্ষমতা, নির্ভরশীলদের ভাতা এবং দাফন ও মরদেহ পাঠানোর খরচের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে।
প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা কেন জরুরি?
অনেকে আইনি প্রক্রিয়া না জানায় বঞ্চিত হন—তাই আবেদন ও অধিকার সম্পর্কে জানাতে উদ্যোগ দরকার বলেই উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









