শিশুদের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করবে—এমন উদ্যোগের কথা জানালেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী। জাতীয় প্রেস ক্লাবে শিশুদের উপযোগী বই দুটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ত্যাগের কাহিনি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে না গেলে তা হারিয়ে যেতে পারে।
পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ত্যাগের গল্প

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যাদের অবদান ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ ও গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে, সেই মানুষদের বিষয়ে শিশুদের জানানো অত্যন্ত দরকার। কারণ, দেশের আসল ইতিহাস নিয়ে শিশুদের উপযোগী বই-লেখনি বা চলচ্চিত্র সেইভাবে গড়ে ওঠেনি।
মন্ত্রণালয় থেকে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার কাজ
অনুষ্ঠানে তিনি জানান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি, যাতে শিশুদের জন্য ইতিহাসচর্চা আরও প্রাণবন্তভাবে এগোয়।
বিদেশে থাকা শিশুদের জন্য ইংরেজি অনুবাদ
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিশু-কিশোরদের জন্য এসব বইয়ের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করা প্রয়োজন। এতে তারাও দেশের ইতিহাস ও ত্যাগী নেতাদের অবদান সহজে জানতে পারবে। প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সন্তানেরা স্থানীয়ভাবে শেখার পাশাপাশি নিজের শিকড়ের গল্পগুলোও পড়তে পারবে।
স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় আহ্বান
স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা ও পরবর্তী সংগ্রামে নেতৃত্ব না থাকলে আজকের স্বাধীন দেশ পাওয়া যেত না। একইভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে এই অবদান পৌঁছাতে হবে। অন্যদিকে, দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় অর্জিত গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার কথাও গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়।
বই উৎসবের মধ্যেই বার্তা
লেখক-সাংবাদিক সাবরিনা শুভ্রা রচিত ‘শহীদ জিয়ারের গল্প শোনো’ এবং ‘ছোটদের প্রিয় খালেদা জিয়া’ বই দুটির মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসবে বক্তব্য দেন একাধিক অতিথি ও আলোচক। প্রকাশনা সংস্থা ‘দশমিক’-এর স্বত্বাধিকারী দীপান্ত রায়হানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি হয় জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে।
প্রশ্ন থাকে একটাই—শিশুদের ইতিহাস শেখানোর মতো বই-আলোচনায় কীভাবে আরও বেশি মনোযোগ আসবে, যাতে তারা বড় হয়ে নিজেদের দেশের অর্জনকে শুধু শুনে নয়, বুঝে ধারণ করতে পারে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: কোন উদ্দেশ্যে উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: শিশুদের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে।
প্রশ্ন: বিদেশে থাকা শিশুদের জন্য কী প্রস্তাব এসেছে?
উত্তর: বইগুলোর ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশের প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছে।
প্রশ্ন: অনুষ্ঠানটি কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









