যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের প্রথমার্ধে দেশটির রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ—যা তৈরি করছে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল হওয়ার শঙ্কা।
যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানি কমেছে

ওটেক্সার তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ কমে ৩৫ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। একই সময়ের আগের বছরে তা ছিল ৩৮ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বাজারে সামগ্রিক চাহিদা টান পড়েছে বলেই ইঙ্গিত মিলছে।
বাংলাদেশের রপ্তানি কমে ৪ বিলিয়ন ডলার
এই ধাক্কায় বাংলাদেশের অবস্থানও খারাপ হয়েছে। দেশটির পোশাক রপ্তানি ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমে ৪ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ৪ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৪ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার—মানে প্রবৃদ্ধির বদলে পড়েছে ঋণাত্মক প্রবণতা।
প্রতিযোগীদের উত্থান, চাপ বাড়ছে
যখন বাংলাদেশ কমছে, তখন প্রতিযোগী দেশগুলোর চিত্র উল্টো। একই সময়ে কম্বোডিয়া রপ্তানি ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ বাড়িয়ে ২ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারে তুলেছে। ইন্দোনেশিয়া ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি দেখিয়েছে ২ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারে। ভিয়েতনামও ১ দশমিক ০৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে ৭ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে।
বিশ্লেষকদের ভাষায়, প্রতিযোগী যখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অংশীদারত্ব বাড়ায়, তখন বাংলাদেশের রপ্তানি যদি একইভাবে কমতে থাকে, আগামী মাসগুলোতে নিম্নমুখী চাপ আরও প্রকট হতে পারে।
চলতি ট্যারিফ উত্তেজনা ও চাহিদা কমার প্রভাব
চলমান বৈশ্বিক ট্যারিফ উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও রপ্তানিকারকরা। তাদের সতর্ক বার্তা—এই ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি অশনিসংকেত হতে পারে।
প্রবাসীদের জন্য এর মানে কী
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানির গতি খারাপ হলে এর প্রভাব পড়ে সরাসরি বাংলাদেশের রেমিট্যান্সপ্রবাহ ও পরিবারের আয়-সাপোর্ট ব্যবস্থায়। চাকরি ও অর্ডারের গতি ধীর হলে প্রবাসী আয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাতেও অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।
কয়েকটি দ্রুত প্রশ্ন
বাংলাদেশে রপ্তানি কত কমেছে? চলতি বছরের প্রথমার্ধে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
কোন দেশগুলো উল্টো দিকে গেছে? কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি পেয়েছে।
ঝুঁকি কোথায়? প্রতিযোগীরা বাজারের অংশ বাড়ালে বাংলাদেশের জন্য চাপ আরও বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









