GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / জেড গ্রুপের দাপটে শেয়ারবাজারে উত্থান

জেড গ্রুপের দাপটে শেয়ারবাজারে উত্থান

ডিএসই শেয়ারদর উর্ধ্বমুখী চার্ট

ডিএসইর গত সপ্তাহের ওঠানামায় ‘জেড গ্রুপের দাপট’ সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের নজরে। লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানির শেয়ারও কীভাবে দামে টান ধরছে—এটাই এখন বাজার-চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।

লভ্যাংশের ভিত্তিতে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘জেড’ শ্রেণি

ডিএসই শেয়ারদর উর্ধ্বমুখী চার্ট

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে লভ্যাংশ দেওয়ার ধারাবাহিকতার ভিত্তিতে ভাগ করা হয় ‘এ’, ‘বি’ ও ‘জেড’ গ্রুপে। ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দিলে প্রতিষ্ঠান পড়ে ‘এ’ গ্রুপে। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ হলে থাকে ‘বি’ গ্রুপে। আর লভ্যাংশ না দিলে সেই প্রতিষ্ঠানকে রাখা হয় ‘জেড’ গ্রুপে।

লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারে পরিচিত করা হয় ‘পচা কোম্পানি’ হিসেবে।

দাম বাড়ার তালিকায় ফারইস্ট ফাইন্যান্স সবচেয়ে এগিয়ে

গত সপ্তাহে ডিএসইতে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দাপট দেখিয়েছে ফারইস্ট ফাইন্যান্স। বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ কোম্পানিটির শেয়ার কিনতে আগ্রহী হওয়ায় সপ্তাহজুড়েই দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহে শেয়ার দাম বেড়েছে ৩১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। টাকার অঙ্কে প্রতি শেয়ারে দাম বেড়েছে ৬০ পয়সা। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দাম দাঁড়ায় ২ টাকা ৫০ পয়সা, আগের সপ্তাহের শেষে ছিল ১ টাকা ৯০ পয়সা।

ফলে এক সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম পরিবর্তনে মোট বেড়েছে ৯ কোটি ৯৪ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।

লভ্যাংশ বন্ধ থাকায় ‘জেড’ পরিচয়

ফারইস্ট ফাইন্যান্স সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ শেয়ার লভ্যাংশ দেয়। এরপর আর কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। এই লভ্যাংশ-ন দেওয়ার ধারাবাহিকতার কারণেই কোম্পানিটির অবস্থান হয়েছে ‘পচা’ হিসেবে পরিচিত ‘জেড’ গ্রুপে।

সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসান দেখিয়েছে ৩ টাকা ৭৫ পয়সা।

আরও কিছু ‘জেড’ গ্রুপ কোম্পানির উত্থান

ফারইস্ট ফাইন্যান্সের পর দাম বাড়ার তালিকায় ছিল তুং হাই নিটিং। সপ্তাহজুড়ে শেয়ার দাম বেড়েছে ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ২০১৬ সালের পর থেকে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি।

দাম বাড়ার তালিকায় পরের দিকে জিবিবি পাওয়ার—২৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়েছে শেয়ারদর। ২০২৩ সালের পর কোম্পানিটি লভ্যাংশ দেয়নি।

দাম কমার শীর্ষ দলে ছিল ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স এবং পিপলস লিজিং—এই প্রতিষ্ঠানগুলোরও দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ নেই। অর্থাৎ বাজারের একটি বড় অংশে লভ্যাংশহীনতার ছাপই স্পষ্ট।

প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা

শুধু দাম বাড়লেই স্বস্তি নয়—যে কোম্পানিগুলো বহু বছর লভ্যাংশ দেয় না, সেগুলোর শেয়ারে ঝুঁকিও বেশি থাকে। বিশেষ করে প্রবাসে থেকে যাদের নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ করা কঠিন, তাদের জন্য কেনার আগে কোম্পানির লভ্যাংশ ইতিহাস ও সাম্প্রতিক আর্থিক অবস্থার দিকে নজর রাখা জরুরি।

সংক্ষেপে

গত সপ্তাহে ডিএসইতে দাম বাড়ার শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭টিতেই ছিল ‘জেড’ গ্রুপের দখল। আর শীর্ষ সাতটি প্রতিষ্ঠানই এই গ্রুপে। ‘জেড গ্রুপের দাপট’ তাই কেবল তালিকায় সীমাবদ্ধ থাকেনি—বাজারের গতি নির্ধারণেও ভূমিকা রেখেছে।

প্রশ্ন-উত্তর

জেড গ্রুপ বলতে কী বোঝায়?
যেসব কোম্পানি লভ্যাংশ দেয় না, সেগুলোর অবস্থান ‘জেড’ গ্রুপে।

ফারইস্ট ফাইন্যান্স কেন নজরে এলো?
গত সপ্তাহে শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের চাহিদা ছিল বেশি।

দাম বাড়া মানেই কি নিরাপদ বিনিয়োগ?
না। লভ্যাংশ না দেওয়া ও লোকসানের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons