বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়েছেন পেসার হাসান মাহমুদ। প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়েছেন তিনি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিংয়ে টানা তিন বলে তিন উইকেট তুলে নিয়ে এই অনন্য অর্জন নিজের করে নেন হাসান।
আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের স্পিন কোচ মুশতাক আহমেদ বলেছিলেন, নতুন বল পেলেই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। মাঠে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায় হাসানের বিধ্বংসী বোলিংয়ে।
এক ওভারেই আফগানিস্তানের তিন ব্যাটারকে ফেরালেন হাসান
হাসানের হ্যাটট্রিকের শুরু ইসমাত আলমকে বোল্ড করার মধ্য দিয়ে। দুর্দান্ত ইনসুইঙ্গারে পরাস্ত হয়ে উইকেট হারান আফগান এই ব্যাটার।
পরের বলে কাইস আহমেদকে ফিরিয়ে দেন হাসান। তাঁর আউটসুইঙ্গারে ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটের পেছনে। সেখানে দারুণ ক্যাচ নিয়ে কাইসকে সাজঘরে ফেরান বাংলাদেশের উইকেটকিপার লিটন দাস।
এরপর নতুন ব্যাটার জিয়া আকবরকে নিয়ে আসে হ্যাটট্রিকের সুযোগ। হাসানের ভেতরে ঢোকা বলে পরাস্ত হন তিনি। বলটি তাঁর প্যাডে লাগলেও মাঠের আম্পায়ার প্রথমে আউট দেননি। বাংলাদেশ রিভিউ নিলে দেখা যায়, পিচিং, ইমপ্যাক্ট ও উইকেটে আঘাত করার ক্ষেত্রে সব শর্তই পূরণ হয়েছে। ফলে আম্পায়ার্স কলের পরিবর্তে সরাসরি আউট নিশ্চিত হয় এবং হাসানের হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয়।
সাত বলের মধ্যে চার উইকেট হারাল আফগানিস্তান
হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপর্যয়ে পড়ে আফগানিস্তান। মাত্র সাত বলের মধ্যে চারটি উইকেট হারায় তারা। আফগানিস্তানের লোয়ার মিডল অর্ডারকে কার্যত একাই ধসিয়ে দেন বাংলাদেশের এই পেসার।
নতুন বল হাতে হাসানের নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ, সুইং এবং ধারাবাহিক আক্রমণ ব্যাটারদের চাপে ফেলে দেয়। তাঁর এই স্পেল বাংলাদেশের জন্য ম্যাচে ফেরার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে।
বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয় হ্যাটট্রিক
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে এর আগে আরও দুবার হ্যাটট্রিক দেখেছে ক্রিকেটবিশ্ব। ২০০৩ সালে অলক কাপালি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেন। এরপর ২০১৩ সালে এই কীর্তি গড়েন সোহাগ গাজী।
তবে তাঁদের কেউই পেসার ছিলেন না। হাসান মাহমুদ প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করে নতুন অধ্যায় যোগ করলেন দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে।
হাসানের এই অর্জন বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে কার্যকর পেস আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর এমন পারফরম্যান্স নতুন আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে।









