GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / ভোটার তালিকা বিতর্কে মোদি সরকারকে চ্যালেঞ্জ অভিজিৎ দীপকের

ভোটার তালিকা বিতর্কে মোদি সরকারকে চ্যালেঞ্জ অভিজিৎ দীপকের

ভারতে বেকার তরুণদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জবাবে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দিয়ে আলোচনায় আসা অভিজিৎ দীপকে এবার ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (১০ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর পর দীপকেকে আটক করে পুলিশ। একই সময় তাঁর সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকেও আটক করা হয়।

ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট থেকে আন্দোলনের নেতৃত্বে

৩১ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টি শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পায়। পরে বেকারত্ব, শিক্ষাব্যবস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিয়ে সংগঠনটি প্রতিবাদী কার্যক্রম শুরু করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ বলে কটাক্ষ করার ঘটনা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। এর জবাবে দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘সব তেলাপোকা একসঙ্গে হলে কী হবে?’ তাঁর এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর ককরোচ জনতা পার্টির পরিচিতি বাড়তে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রে জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শেষ করে ভারতে ফেরেন দীপকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া জনপ্রিয়তাকে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহার করার সুযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে আন্দোলনের কারণে নিজে ও পরিবারের সদস্যরা হুমকির মুখে পড়েছেন বলেও তাঁর দাবি।

বিমানবন্দরে পুলিশের সঙ্গে কথোপকথন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লিতে পৌঁছানোর পর পুলিশ দীপকে ও তাঁর দুই সহযোগীকে আটক করে। বিমানবন্দরে পুলিশের সঙ্গে কথোপকথনের একটি ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি গ্রেফতার হতে এসেছি, গ্রেফতার করুন। আপনাদের ভয় পাই না।’

তবে পুলিশ সদস্যরা তাঁকে জানান, গ্রেফতার করা হচ্ছে না; বরং তাঁর সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে বলে ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষাব্যবস্থা ও বেকারত্ব নিয়ে আন্দোলন

ককরোচ জনতা পার্টি চলতি বছর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবাদে অংশ নেয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এ ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে আনে সংগঠনটি।

এরপর আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য হয়ে ওঠেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনচাপের মুখে গত ২৫ জুলাই পদত্যাগ করেন তিনি।

পরবর্তী সময়ে দীপকে ও তাঁর সমর্থকেরা সরকারি স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রচার চালিয়ে আসছেন। সংগঠনটি নিজেদের প্রচলিত রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, বরং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করা একটি আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরে।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক

সম্প্রতি ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে আবারও কর্মসূচি ঘোষণা করে সিজেপি। বিরোধীদের অভিযোগ, খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন দীপকে ও তাঁর সমর্থকেরা।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, তালিকা সংশোধনের সময় বিভিন্ন ধরনের এন্ট্রি যাচাইয়ের কারণে এই সংখ্যা তৈরি হয়েছে। ভুলভাবে কারও নাম বাদ পড়লে সংশ্লিষ্ট ভোটাররা পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন বলেও কমিশনের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত মাসে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মকর্তার ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধনপ্রক্রিয়া ও ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে আসে। এরপর কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন নতুন গতি পায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে কমিশনের দাবি, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক।

দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা

শনিবারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল এবং প্রতিবাদ কর্মসূচির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে সমর্থকদের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান দীপকে। তিনি মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের আদর্শ অনুসরণের কথাও বলেন।

বিমানে ওঠার আগে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দীপকে বলেন, ‘আগামীকাল কী হবে, আমি জানি না। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, আমি ভয় পাব না, পিছু হটব না। আমাদের গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হবে।’

বেকারত্ব, শিক্ষাব্যবস্থা এবং ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে দীপকের আন্দোলন ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতিক্রিয়ার ওপর পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।

সম্পাদনা নোট: ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের সংখ্যা, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের কারণ এবং আটক হওয়ার ঘটনাসহ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো প্রকাশের আগে রয়টার্স, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।

Social Icons