যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের নামে জারি করা একটি ডিও লেটারকে জাল বলে শনাক্ত করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। চিঠিটি ব্যবহার করে একটি কোম্পানি কাজের অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি তদন্ত করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) অনুরোধ জানিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয় ও প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর।
প্রতিমন্ত্রী নিজেও চিঠি ইস্যু করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের কোনো চিঠি সম্পর্কে তিনি জানতেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি তদন্তের অনুরোধ জানান।
কোন কোম্পানির নামে জারি হয়েছিল চিঠি?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৬ আগস্ট যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সরকারি প্যাড ব্যবহার করে মেসার্স শাহজালাল ট্রেডিং কোম্পানির নামে একটি ডিও লেটার তৈরি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক হিসেবে সৈয়দ সালওয়ান সলীমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজের জন্য সিলেটের বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা নদীতে জেগে ওঠা চর থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি উত্তোলনের অনুমতি চাওয়া হয়।
এতে বলা হয়, মেসার্স শাহজালাল ড্রেজিং সরকারি উন্নয়নকাজে সরবরাহের জন্য ৫০ লাখ ঘনফুট মাটি উত্তোলনের দায়িত্ব পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশও করা হয়।
চিঠিতে সরকারি বিধিবিধান, পরিবেশগত বিষয় ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
ডিও লেটার সম্পর্কে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী
ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন চিঠিটির সত্যতা যাচাই করতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
জবাবে আমিনুল হক জানান, ওই চিঠি সম্পর্কে তাঁর কিছুই জানা নেই। সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গেও তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি চিঠিটি ইস্যু করেননি বলেও স্পষ্ট করেন।
যুগান্তরকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিঠিটির বিষয়ে জানার পর তিনি সিআইডিকে তদন্তের অনুরোধ করেছেন। তাঁর ধারণা, দপ্তরের কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে তদন্ত ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
সিআইডি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখনো কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ
চিঠিটি জাল বলে নিশ্চিত হওয়ার পর ভূমি মন্ত্রণালয় সেটি বাতিল করেছে। একই সঙ্গে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সিআইডিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও বিষয়টি তদন্তের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত জালিয়াতির সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল জানা যায়নি।
সচিবালয়ে জাল ডিও লেটার নিয়ে উদ্বেগ
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতেও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে ডিও লেটার জাল করার ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের অভিযোগ, এ ধরনের জালিয়াতির পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করতে পারে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, আগের ঘটনাগুলোর যথাযথ তদন্ত ও বিচার না হওয়ায় এ ধরনের জালিয়াতি বারবার ঘটার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।
তাঁদের মতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে তদন্ত করলে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
তবে এই ঘটনায় কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারি কর্মকর্তা জড়িত কি না, তা এখনো প্রমাণিত হয়নি। সিআইডির তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।









