ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে রাষ্ট্রীয় অনুমোদন ছাড়া তৈরি করা বেশ কিছু ইসরায়েলি বসতি বা আউটপোস্ট ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স নিশ্চিত করেছে যে ফিলিস্তিনিদের ওপর উগ্রবাদী বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচণ্ড মনস্তাত্ত্বিক চাপের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, এই নির্দেশ মূলত সেসব স্থাপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা ইসরায়েল রাষ্ট্রের নীতিগত অনুমোদন ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে বা বেআইনি উপায়ে স্থাপন করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যম ওয়াইনেট নিশ্চিত করেছে যে প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় অধিকৃত পশ্চিম তীরের প্রায় ১০০টি পৃথক অননুমোদিত আউটপোস্ট বা বসতি রয়েছে।
এদিকে গত রোববার ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জালুদ গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া তিন ফিলিস্তিনি পরিবারকে নিরাপদে তাদের বসতবাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
সম্প্রতি ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি সহিংসতায় জড়িত উগ্রবাদী বসতি স্থাপনকারীদের উন্মুক্তভাবে ‘সন্ত্রাসী’ অভিহিত করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আহ্বান জানান।
তবে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচ নেতানিয়াহুর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের স্পষ্ট ভিন্নমত পোষণ করে বলেন যে অবৈধ বসতি উচ্ছেদের সিদ্ধান্তটি বিভ্রান্তিকর।
ইসরায়েলি শান্তি রক্ষা সংস্থা ‘পিস নাও’-এর প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে বর্তমানে মোট ৩৪০টি অননুমোদিত আউটপোস্ট এবং ১৪৬টি সরকার-অনুমোদিত বড় বসতি রয়েছে।
জাতিসংঘসহ বিশ্বের অধিকাংশ পরাশক্তি আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে সব ধরনের ইসরায়েলি বসতি নির্মাণকে অবৈধ ও দখলদারিত্ব হিসেবে গণ্য করে আসছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ও সামরিক বাহিনী এই বড় আকারের উচ্ছেদ অভিযানের নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।


