GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / শেখ হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে ভারতের অবস্থান, জানানো হলো আইনি প্রক্রিয়া

শেখ হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে ভারতের অবস্থান, জানানো হলো আইনি প্রক্রিয়া

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে নিজেদের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, তার প্রত্যর্পণের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে।

বুধবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলার নথি ভারতকে দিয়েছে কিনা এবং এসব নথির ভিত্তিতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হবে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ একটি আইনি বিষয়। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। ভারত আগেও এ অবস্থানের কথা জানিয়েছে।

একই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়েও ইতিবাচক বার্তা দেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যতমুখী। জনগণকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই ভারতের লক্ষ্য।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা।

ভারত গত জুলাইয়ে জানিয়েছিল, বাংলাদেশের ওই অনুরোধ তারা পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পরীক্ষা করছে বলেও তখন জানানো হয়।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালে করা প্রত্যর্পণ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৬ সালে চুক্তিটির একটি ধারা সংশোধন করা হয়। এর ফলে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া আগের তুলনায় সহজ ও দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হয়।

সংশোধিত ব্যবস্থায় প্রত্যর্পণের আবেদনের সঙ্গে অপরাধের বিস্তারিত প্রমাণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা কমানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাকেও গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে প্রত্যর্পণ চুক্তিতে কিছু ক্ষেত্রে আবেদন প্রত্যাখ্যানের সুযোগও রয়েছে। চুক্তির ৬ নম্বর ধারায় রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ না করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অপহরণ ও সন্ত্রাসবাদের মতো কয়েকটি গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য না করার কথাও চুক্তিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া চুক্তির ৮ নম্বর ধারায় কোনো অভিযোগ সৎ উদ্দেশ্যে বা ন্যায়বিচারের স্বার্থে করা হয়নি বলে মনে হলে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রয়েছে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

তবে শেখ হাসিনা ওই বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার পরও তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। বরং নয়াদিল্লি বলে আসছে, বিষয়টি আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ৩ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারও জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ আইনি পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। তাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাও ভারত দিতে পারছে না বলে তিনি জানান।

ফলে ভারতের সর্বশেষ বক্তব্যে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে নতুন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। তবে নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। বিষয়টি আপাতত আইনি কাঠামোর মধ্যেই পর্যালোচনা করতে চায় ভারত। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখার বার্তাও দিয়েছে দেশটি।

Social Icons