সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির গুপ্ত রাজনীতি করার কৌশল নিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। তার দাবি, এর ফলে সংগঠনটি লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন আব্দুল কাদের।
পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ছাত্রলীগের সঙ্গে মিশে তাদের কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শিবিরের সংশ্লিষ্টরা কখনো ক্ষমা চাইবে কি না।
আব্দুল কাদের দাবি করেন, আবরার ফাহাদের ওপর নির্যাতনের শুরুতে মেহেদী হাসান রবিন জড়িত ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রবিনের পরিবার জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, রবিনের দাদা স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন।
আবরার ফাহাদ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১৯ সালে বুয়েটের একটি আবাসিক হলে তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
আব্দুল কাদের বলেন, শিবিরের প্রকাশ্য কমিটি না থাকায় ছাত্রলীগ ভিন্নমতাবলম্বী শিক্ষার্থীদের অনেককেই শিবিরের সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করত। তার অভিযোগ, এই পরিচয়ের কারণে অনেক শিক্ষার্থী নির্যাতন, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, আবরার ফাহাদও এই ধরনের ‘শিবির ট্যাগিং’-এর শিকার হয়েছিলেন। তার ভাষ্য, এ ধরনের গুপ্ত রাজনীতির পরিণতিতে আবরারকে প্রাণ দিতে হয়েছে।
আব্দুল কাদেরের অভিযোগ, শুধু আবরার নন, আরও অনেক নিরপরাধ শিক্ষার্থীকে শিবিরের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
তার দাবি, এত ঘটনার পরও ছাত্রশিবির তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে এখনো গুপ্ত রাজনীতির কৌশল অনুসরণ করছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে নতুন ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটিকে বড় বাধা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আব্দুল কাদেরের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক পরিচয়, সংগঠনের গোপন তৎপরতা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর তার প্রভাব। তবে তার পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।








