GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / ঘুস না পেলে দলিলে স্বাক্ষর করেন না সাবরেজিস্ট্রার সিরাজুল: অভিযোগ

ঘুস না পেলে দলিলে স্বাক্ষর করেন না সাবরেজিস্ট্রার সিরাজুল: অভিযোগ

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুস, অনিয়ম এবং নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকার অভিযোগ উঠেছে। দলিলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও নির্ধারিত উৎকোচ না দিলে দলিলে স্বাক্ষর করা হয় না বলে অভিযোগ করেছেন দলিল লেখক, দাতা ও গ্রহীতারা।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সিরাজুল ইসলাম কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর থেকে সপ্তাহে তিন দিনের বেশি অফিসে থাকেন না। এতে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ঘুস দিতে রাজি না হলে বিভিন্ন কাগজে ত্রুটি দেখিয়ে দলিল ফেরত দেওয়া হয়। এরপর দিনের পর দিন সেবাপ্রত্যাশীদের ঘুরতে হয়। অন্যদিকে অতিরিক্ত টাকা দিলে ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র দিয়েও দলিল সম্পাদনের সুযোগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি সরেজমিন সোনাইমুড়ী সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, যেসব দাতা ও গ্রহীতা দলিলপ্রতি নির্ধারিত উৎকোচ দিচ্ছেন, তাদের দলিলে বিশেষ চিহ্ন দিয়ে এজলাসে জমা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর যারা টাকা দিচ্ছেন না, তাদের কাগজপত্রে বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

দীন মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, উৎকোচ না দেওয়ায় গত সপ্তাহে তার দলিলের কাগজে ত্রুটি দেখিয়ে সেটি ফেরত দেওয়া হয়। সাত দিন ঘোরার পর মঙ্গলবার অফিসের সাইফুল আলমের কাছে ১ হাজার ৩০০ টাকা দেওয়ার পর দলিলটি জমা নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

বারাইপুর গ্রামের শাহাদাতও সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, সিরাজুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সাব-কবলা দলিলের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং হেবার ঘোষণা দলিলের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

শাহাদাতের অভিযোগ, কোনো কাগজে ত্রুটি থাকলে এর বাইরে আরও ৬০০ টাকা দিতে হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো কয়েকজন দলিল লেখককে অপমান করে অফিস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অফিস সহকারী মোল্লার মাধ্যমে এসব টাকা নেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সোনাইমুড়ী দলিল লেখক সমিতির সম্পাদক বলেন, ২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দলিলের ক্ষেত্রে পে-অর্ডার ছাড়া ২ শতাংশ টাকা হাতে নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এর বাইরে নগদ টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই।

তবে তার অভিযোগ, দলিল লেখকেরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে কথা বললে তাদের অফিস থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে সাবরেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ সামনে এসেছে। গত বছরের মার্চে বারাইপুর গ্রামের গ্রহীতা শাহাদাত ও দাতা জয়নাল আবদিনের একটি দলিল থেকে দুটি সাব-কবলা দলিল করার ঘটনায় তার কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ওই দলিলসংক্রান্ত ঘটনায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ও রয়েছে। একই দলিলের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনাও তারা উল্লেখ করেছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাবরেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলাম ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, জেলা রেজিস্ট্রারকে অবগত করেই তিনি অফিসে অনুপস্থিত থাকেন। ঘুস নেওয়ার অভিযোগও তিনি সরাসরি অস্বীকার করেছেন।

Social Icons