কুমিল্লার ১৩ বছর বয়সি স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে অপ্রতিমের আইফোনও। তবে পুলিশের বক্তব্যের পরও হত্যাকাণ্ডটি নিয়ে অন্তত তিনটি প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
১. আইফোনই কি হত্যার একমাত্র কারণ?
পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় অপ্রতিম বাধা দিলে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হলে আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় অভিযুক্তরা।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিম ও অভিযুক্তদের মধ্যে আগে থেকেই পরিচয় ছিল। তাদের একসঙ্গে ছবি ও ভিডিও থাকার কথাও জানানো হয়েছে।
এ কারণে আইফোন ছিনতাইয়ের বাইরে অন্য কোনো বিরোধ, পূর্বশত্রুতা কিংবা কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা ছিল কিনা, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময়ে কয়েকজন কিশোরকে বিভিন্ন ঘটনায় আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার তথ্য রয়েছে।
এ কারণে তাদের কারও সঙ্গে পুরোনো বিরোধ বা ক্ষোভ থেকে অপ্রতিমকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কিনা, সেই প্রশ্নও উঠেছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
২. তুহিনের বাসায় আইফোন, পরিবারের কেউ জানতেন?
পুলিশের দাবি, অপ্রতিমের কাছ থেকে নেওয়া আইফোনটি তুহিনের বাসা থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপারের বক্তব্য অনুযায়ী, ফোন উদ্ধারের ক্ষেত্রে তুহিন প্রথমে পুলিশকে বিভ্রান্ত করে। তিনটি স্থানে অভিযান চালিয়েও ফোন না পাওয়ার পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তুহিনের বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।
এতে প্রশ্ন উঠেছে, ফোনটি বাসায় রাখার বিষয়টি পরিবারের কেউ জানতেন কিনা। জানলে কেন সেটি সরানো হয়নি, কিংবা পুলিশের অভিযান শুরুর আগে ফোনটি অন্যত্র সরানোর চেষ্টা হয়েছিল কিনা, সেসব বিষয়ও তদন্তে পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
৩. তুহিনের চলাফেরা নিয়ে মায়ের বক্তব্যে কেন অসঙ্গতি?
অপ্রতিম হত্যার সময় নিয়েও পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে তুহিনের মায়ের বর্ণনায় পার্থক্য রয়েছে।
পুলিশের দাবি, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দার নির্জন বনে অপ্রতিমকে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বাধা দিলে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল তার মাথায় বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে আঘাত করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত হলে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
অন্যদিকে তুহিনের মা জানিয়েছেন, সেদিন জুমার নামাজের পর তুহিন বাসায় এসে খাওয়া-দাওয়া করে আবার বাইরে যায়। বিকালের দিকে বাসায় ফিরে মাগরিবের আগে আবার বের হয়। মাগরিবের পরও কিছু সময় বাইরে থাকার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসায় ফেরে।
দুই বর্ণনার মধ্যে সময় ও চলাফেরার বিষয়ে যে পার্থক্য রয়েছে, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করার বিষয়।
তদন্ত এখনো চলছে
পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করে তার বিষয়ে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত কিনা, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন বা চার্জশিট দাখিলের কথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।






