নেত্রকোনা শহরের এন আকন্দ কামিল মাদ্রাসার এক শিক্ষকের সঙ্গে এক নারীর আপত্তিকর অবস্থানের একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে ওই শিক্ষককে প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক মো. এহসানুল হক মাদ্রাসার অনার্স বিভাগের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ের নন-এমপিওভুক্ত খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। তিনি তিন সন্তানের জনক এবং তার বাড়ি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায়।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট শিক্ষকদের একটি সভা চলাকালে সিসিটিভি মনিটরে এক নারীর সঙ্গে এহসানুল হককে দেখতে পান সহকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে পরে সংশ্লিষ্ট ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, এরপর ওই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন।
পদত্যাগ গ্রহণ করে স্থায়ী অব্যাহতি
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন জানান, ঘটনার পর গত ২৬ আগস্ট অভিযুক্ত শিক্ষকের কক্ষের তালা পরিবর্তন করা হয় এবং ক্যাম্পাসে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।
তিনি জানান, পরে ১ সেপ্টেম্বর এহসানুল হক পদত্যাগপত্র জমা দেন। জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অধ্যক্ষ আরও জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও মাদ্রাসার গভর্নিং বডিকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
থানায় অভিযোগ পাওয়া যায়নি
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এহসানুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মুনমুন জাহান লিজা বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত শিক্ষককে বরখাস্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কেন এখনও পূর্ণাঙ্গ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে।
