উপহার হিসেবে পাওয়া একটি শাড়িই যেন বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশার জন্য। প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে করা এক মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদনের মেয়াদ বৃদ্ধির পর আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে হাজির হয়ে তানজিন তিশা আত্মসমর্পণপূর্বক জামিন বর্ধিতকরণের আবেদন জানান। শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত তাঁর জামিনের মেয়াদ বর্ধিত করার আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিশার আইনজীবী নিহার হোসেন।
আদালতের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে বাইরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এই অভিনেত্রী। ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের নিয়মিত নানা কনটেন্ট ও ছবি পোস্ট করতে হয়। ভক্ত ও পরিচিত শুভানুধ্যায়ীরা ভালোবেসে অনেক কিছু উপহার দেন। আমরাও সেই ভালোবাসার খাতিরে সেগুলো গ্রহণ করি। তেমনই একটি শাড়ি উপহার হিসেবে নিতে গিয়ে আজ আমাকে আইনি জটিলতায় পড়তে হলো।”
তিশা পেছনের ঘটনা টেনে বলেন, “আমাদেরই এক পরিচিত বড় বোনের মাধ্যমে আমি শাড়িটি উপহার হিসেবে পেয়েছিলাম। তাঁর সঙ্গে আমার ভালো সুসম্পর্ক ছিল। তিনি আমাকে ছবি পোস্ট করতে বললে আমি জানাই, ব্যস্ততা কমলে পরে ছবি দেব। কারণ তখন আমি চিত্রনায়ক শাকিব খানের ‘সোলজার’ সিনেমার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু ছবি দেওয়ার আগেই হঠাৎ করে দেখতে পাই, ২৭ হাজার টাকার শাড়ি নিয়ে আমি নাকি প্রতারণা করেছি—এমন অভিযোগে নিউজ করা হয়েছে।”
আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিশা বলেন, “এর পেছনে কে বা কারা কলকাঠি নাড়ছে, আমি তা জানতে চাই না। কোনো অভিযোগ থাকলে তারা আগেই বিষয়টি আমার সাথে কথা বলে মিটিয়ে ফেলতে পারত। আমি চাই আইন আমাকে সঠিক ন্যায়বিচার দিক। আইনের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা ও শ্রদ্ধা রয়েছে।”
দৃঢ় মনোভাব ব্যক্ত করে অভিনেত্রী তিশা পরিশেষে বলেন, “ন্যায়বিচারের স্বার্থে যদি আমাকে আরও পাঁচবারও আদালতে আসতে হয়, আমি আসব। এখান থেকে আমি ন্যায়বিচার নিয়েই ছাড়ব। এখানে কেউ যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চায়, তবে আমি তা মেনে নেব না। সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমরা সঠিক বিচার পাওয়ার অধিকার রাখি।”
