এয়ার ফ্রায়ার কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর?
তেল কম লাগে, সময়ও বাঁচে। তাই ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেনসহ বিভিন্ন খাবার রান্নায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এয়ার ফ্রায়ার। তবে এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করলেই খাবার পুরোপুরি স্বাস্থ্যকর হয়ে যায়, এমনটা নয়।
অতিরিক্ত তাপ, খাবার পুড়িয়ে ফেলা কিংবা ভুলভাবে যন্ত্র ব্যবহার করলে কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক যৌগ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহারে সুবিধার পাশাপাশি কিছু সতর্কতাও প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের পুষ্টিবিদ জুলিয়া জুমপানো জানান, ডুবো তেলে ভাজার তুলনায় এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করা খাবারে ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে তা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে।
অ্যাক্রাইলামাইড কম তৈরি হতে পারে
আলু বা শর্করাজাতীয় খাবার বেশি তাপে ডুবো তেলে ভাজার সময় অ্যাক্রাইলামাইড নামের রাসায়নিক তৈরি হতে পারে। এয়ার ফ্রায়ারে রান্নার ক্ষেত্রে এর পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কমতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মাংস বা চর্বিযুক্ত খাবার অতিরিক্ত উচ্চ তাপে রান্না করলে পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন ও হেটেরোসাইক্লিক অ্যামাইনসের মতো কিছু যৌগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া মাছ বা চর্বিযুক্ত খাবার উচ্চ তাপে রান্নার সময় কোলেস্টেরল অক্সিডেশন প্রোডাক্টস তৈরির আশঙ্কার কথাও গবেষণায় উঠে এসেছে।
এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহারে যে ৫ ভুল এড়াবেন
১. অতিরিক্ত তাপ দেবেন না
খাবারের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা ব্যবহার করুন। অকারণে সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করা এড়িয়ে চলুন।
২. খাবার পুড়িয়ে ফেলবেন না
মচমচে করার জন্য খাবার অতিরিক্ত রান্না করে কালচে বা পোড়া করে ফেলা ঠিক নয়। পোড়া অংশে ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি হতে পারে।
৩. প্রয়োজন হলে অল্প তেল ব্যবহার করুন
এয়ার ফ্রায়ারে তেল ছাড়াও রান্না করা যায়। তবে খাবারের ধরন অনুযায়ী অল্প তেল ব্যবহার করলে স্বাদ ও গঠন ভালো থাকতে পারে।
৪. খাবার গাদাগাদি করে রাখবেন না
একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার দিলে গরম বাতাস ঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না। ফলে খাবার সমানভাবে রান্না নাও হতে পারে।
৫. প্লাস্টিক ব্যবহার করবেন না
এয়ার ফ্রায়ারের ভেতরে সাধারণ প্লাস্টিকের পাত্র, পলিথিন বা প্লাস্টিকের চামচ ব্যবহার করা উচিত নয়। উচ্চ তাপে এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এয়ার ফ্রায়ার কেনার সময় যা দেখবেন
ধারণক্ষমতা: এক বা দুজনের জন্য ২ থেকে ৩ লিটারের মডেল যথেষ্ট হতে পারে। পরিবারের সদস্য বেশি হলে ৫ থেকে ৭ লিটারের মডেল বিবেচনা করা যায়।
বাস্কেটের আবরণ: মানসম্মত ও নিরাপদ উপকরণে তৈরি বাস্কেট বেছে নেওয়া উচিত।
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: রান্নার ধরন অনুযায়ী তাপমাত্রা কমানো-বাড়ানোর সুবিধা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
টাইমার: নির্দিষ্ট সময় সেট করার সুবিধা থাকলে খাবার অতিরিক্ত রান্না বা পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমানো সহজ হয়।
এয়ার ফ্রায়ার পরিষ্কার রাখবেন যেভাবে
প্রতিবার ব্যবহারের পর বাস্কেট ঠান্ডা করে কুসুম গরম পানি, নরম স্পঞ্জ ও তরল পরিষ্কারক দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। তারের মাজনি দিয়ে ঘষা উচিত নয়, কারণ এতে বাস্কেটের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ভেতরের তাপ দেওয়ার অংশেও তেল বা চর্বি জমেছে কি না, নিয়মিত পরীক্ষা করে পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কার করার আগে অবশ্যই যন্ত্রের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে এবং ধোয়ার পর সব অংশ ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।
মূল কথা
এয়ার ফ্রায়ারকে স্বাস্থ্যকর রান্নার জাদুর যন্ত্র হিসেবে দেখার চেয়ে সঠিকভাবে ব্যবহার করাই গুরুত্বপূর্ণ। কম তেল ব্যবহার, পরিমিত তাপ এবং পোড়া খাবার এড়িয়ে চললে এর সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করা যেকোনো ভাজাপোড়া খাবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বাস্থ্যকর হয়ে যায়, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
