কোর্ট মার্শালে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছেন কক্সবাজার বিজিবির ৩৪ ব্যাটালিয়নের সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল ফারুখ হোসেন খান। ইয়াবা-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর শুরু হওয়া তদন্তের ধারাবাহিকতায় তার বিরুদ্ধে এই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে ফারুখ হোসেন খানকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সেনা সূত্রের দাবি, কোনো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়ে কোর্ট মার্শাল পর্যন্ত গড়ানোর ঘটনা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে প্রথম। তাদের মতে, অপরাধে জড়িত কেউ তদবির কিংবা প্রভাব খাটিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ পাবেন না। বিশেষ করে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
গত বছরের ২৫ এপ্রিল দৈনিক যুগান্তরে ‘কক্সবাজারে বিজিবি সিও-র ইয়াবা ভাগাভাগি’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে ইয়াবা ভাগাভাগি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিজিবির পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও কোর্ট মার্শালের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিচারিক কার্যক্রমে প্রায় অর্ধশত সাক্ষীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে প্রথম সাক্ষী ছিলেন যুগান্তরের প্রতিবেদক জসিম উদ্দিন।
এরপর গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ‘কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি সেনা কর্মকর্তা’ শিরোনামে আরেকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুগান্তর। সেখানে ফারুখ হোসেন খানের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরুর তথ্য তুলে ধরা হয়। একই প্রতিবেদনে বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মাধ্যমে তদবির এবং সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনটিতে বিচারিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে একজন সাক্ষীকে গুমের চেষ্টা এবং অন্য সাক্ষীদের হত্যা ও গুমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রতিবেদক ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও উঠে আসে।
বিচারিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই সেনা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে কোর্ট মার্শালে ফারুখ হোসেন খানকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এরপর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তাদের দাবি, যুগান্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও বলেন, অপরাধ করে সেনাবাহিনীতে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।









