GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / শেষ পাতা / মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব, টানা দুই প্রান্তিকে কমেছে রেমিট্যান্স

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব, টানা দুই প্রান্তিকে কমেছে রেমিট্যান্স

প্রবাসী আয়ে দেখা দিয়েছে চাপ

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব এবার বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহেও দেখা দিতে শুরু করেছে। আগের বছর একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি থাকলেও সাম্প্রতিক দুই প্রান্তিকে আগের প্রান্তিকের তুলনায় রেমিট্যান্স ধারাবাহিকভাবে কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছিল, পরের দুই প্রান্তিকে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন প্রায় ৯৯৪ কোটি ডলার। এরপর এপ্রিল-জুন সময়ে রেমিট্যান্স নেমে আসে প্রায় ৯৩৮ কোটি ডলারে। অর্থাৎ মাত্র এক প্রান্তিকের ব্যবধানে প্রবাহ কমেছে ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ।

এরপর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও বড় পতন দেখা যায়। এ সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৮৬০ কোটি ডলার। আগের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের তুলনায় এটি কমেছে ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ বলছে, অভিবাসন ও রেমিট্যান্স খাত এখনো পুরোপুরি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েনি। তবে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এই খাতের জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারগুলোতে সংঘাত ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রবাসী আয়ের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া নতুন কর্মী বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়াতেও বিভিন্ন বাধা তৈরি হচ্ছে। যেসব দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বড় অংশ কাজ করেন, সেসব দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে, তাহলে রেমিট্যান্সের ওপর নেতিবাচক প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকতে পারে। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার প্রভাব শুধু বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের জিডিপিতে প্রবাসী আয়ের অবদানও কমেছে। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে জিডিপিতে রেমিট্যান্সের অবদান ছিল প্রায় ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এপ্রিল-জুনে তা নেমে আসে প্রায় ৭ শতাংশে।

আমদানি ব্যয় মেটাতেও রেমিট্যান্স বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রপ্তানি আয় দিয়ে দেশের মোট আমদানি ব্যয়ের পুরোটা মেটানো সম্ভব হয় না। রপ্তানি আয় দিয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানি ব্যয় মেটানো গেলেও বাকি অংশের অর্থায়নে রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশে আসা রেমিট্যান্স দিয়ে আমদানি ব্যয়ের প্রায় ৫২ দশমিক ৪০ শতাংশ মেটানোর সক্ষমতা ছিল। এপ্রিল-জুনে এই হার কমে দাঁড়ায় ৪৫ দশমিক ৩৭ শতাংশে। জুলাই-সেপ্টেম্বরে তা আরও কমেছে।

ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ধারাবাহিক পতন অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক খাতে চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কতদিন স্থায়ী হয় এবং এর প্রভাব কতটা বিস্তৃত হয়, তার ওপর আগামী দিনে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে।

Social Icons