GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / কিশোরীর সঙ্গে জিন্নাহর অসম প্রেম-বিয়ের যে ঘটনা ভারত কাঁপিয়ে দিয়েছিল

কিশোরীর সঙ্গে জিন্নাহর অসম প্রেম-বিয়ের যে ঘটনা ভারত কাঁপিয়ে দিয়েছিল

ভারতের ইতিহাসে আলোচিত প্রেম ও বিয়ের ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও লেডি রতনবাই পেটিটের (রতি জিন্নাহ) সম্পর্ক। ধনী পার্সি পরিবারের মেয়ে রতনবাইকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত সে সময় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

১৯১৮ সালের ২০ এপ্রিল মুম্বাইয়ের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী স্যার দিনশা পেটিট খবরের কাগজে জানতে পারেন, তার মেয়ে লেডি রতি আগের দিন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে বিয়ে করেছেন

এই সম্পর্কের শুরু হয়েছিল কয়েক বছর আগে দার্জিলিং ভ্রমণে। স্যার দিনশা পেটিট নিজের বন্ধু ও ব্যারিস্টার জিন্নাহকে দার্জিলিংয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেখানে তার ১৬ বছর বয়সী মেয়ে রতির সঙ্গে জিন্নাহর পরিচয় হয়

তখন জিন্নাহর বয়স ছিল প্রায় ৪০ বছর। বয়সের বড় পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দার্জিলিং ভ্রমণের সময় দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

জিন্নাহ একসময় স্যার দিনশার কাছে তার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন রতির বাবা। তিনি এই সম্পর্ক মেনে নেননি এবং রতি ও জিন্নাহর যোগাযোগ বন্ধ করার চেষ্টা করেন।

স্যার দিনশা এমনকি আদালতের মাধ্যমে রতি প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত জিন্নাহর সঙ্গে দেখা বন্ধের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু তাদের যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

১৯১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রতি ১৮ বছরে পা দেন। এরপর তিনি পিতৃগৃহ ত্যাগ করেন। পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ১৮ এপ্রিল ১৯১৮ সালে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সঙ্গে তার নিকাহ সম্পন্ন হয়।

জিন্নাহ-রতির এই বিয়ে সেই সময় ভারতীয় সমাজে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। জওহরলাল নেহরুর বোন বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিতও তার আত্মকথায় এই বিয়ের সামাজিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন।

বিয়ের পর রতি তার সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব ও স্পষ্টভাষী আচরণের জন্য পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠত।

তবে সময়ের সঙ্গে জিন্নাহর রাজনৈতিক ব্যস্ততা ও দুজনের মধ্যে বয়সের পার্থক্যের কারণে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। রতির অসুস্থতাও তাদের জীবনে প্রভাব ফেলে।

১৯২৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মাত্র ২৯ বছর বয়সে রতনবাই জিন্নাহ মারা যান। তার মৃত্যু জিন্নাহকে গভীরভাবে আঘাত করে। স্ত্রীর মৃত্যুর সময় প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে তাকে আবেগ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

জিন্নাহ ও রতনবাইয়ের সম্পর্ক ইতিহাসে ভালোবাসা, সামাজিক বাধা ও ব্যক্তিগত সংগ্রামের এক আলোচিত অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে।

Social Icons