একই পরিবারের দুই সদস্যকে হত্যা, এলাকায় চাঞ্চল্য
খুলনার রূপসা উপজেলায় মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে একই পরিবারের বাবা ও ছেলেকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রায় ৫০ দিনের মাথায় এবার তার বাবা **আক্তার ঢালী (৬০)**কে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের দুর্জনীমহল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার সময় নিজ বাড়ির সামনে শহীদের মোড়ের কাছে অবস্থান করছিলেন আক্তার ঢালী। এ সময় কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। হামলার পর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।
গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আক্তার ঢালীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এর আগে একই এলাকায় আক্তার ঢালীর ছেলে **জয় ঢালী (২৭)**কে হত্যা করা হয়েছিল।
গত ১৫ আগস্ট রাতে দুর্জনীমহল শহীদের মোড়ের একটি চায়ের দোকানের সামনে জয়ের ওপর হামলা চালানো হয়। একদল যুবক তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং গলা কেটে হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওই ঘটনায় জয়ের মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে রূপসা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছিল।
কিন্তু সেই ঘটনার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া চলার মধ্যেই এবার জয়ের বাবা খুন হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মাত্র এক মাস ২০ দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের দুই সদস্যকে হত্যার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
খবর পেয়ে রূপসা থানা পুলিশ এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
রূপসা থানার ওসি আনোয়ার জাহিদ জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্বশত্রুতা অথবা জয়ের হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে আক্তার ঢালীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে।
একই পরিবারের বাবা-ছেলেকে অল্প সময়ের ব্যবধানে হত্যার ঘটনায় এখন স্থানীয়দের একটাই প্রশ্ন, দুই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কি একই বিরোধ বা চক্র জড়িত? তদন্ত শেষ হলেই এর উত্তর মিলতে পারে।






