GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / তিতাসে নতুন কূপ, বাড়বে জাতীয় গ্রিডের গ্যাস সরবরাহ

তিতাসে নতুন কূপ, বাড়বে জাতীয় গ্রিডের গ্যাস সরবরাহ

তিতাসে নতুন কূপ, বাড়বে জাতীয় গ্রিডের গ্যাস সরবরাহ

দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে নতুন গ্যাস সরবরাহের আশা তৈরি হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে খননাধীন তিনটি নতুন কূপ থেকে আগামী ৬ মাসের মধ্যে প্রতিদিন অন্তত ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের আশা করছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)।

তিন কূপ থেকে আসবে নতুন গ্যাস

তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ থেকে নতুন করে গ্যাস পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২৯ নম্বর কূপের খনন ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এই কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে।

অন্যদিকে ৩১ নম্বর কূপের খননকাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। ৩০ নম্বর কূপের খননও শিগগির শুরু করার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গভীরতম কূপে বড় গ্যাস মজুতের আশা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় গত ১৯ এপ্রিল ৩১ নম্বর কূপের খনন শুরু হয়। কূপটি ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতায় খননের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৯২০ মিটার পর্যন্ত খনন সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সার্ভে অনুযায়ী, এই এলাকায় প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত থাকতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি বছরেই কূপটির খনন শেষ করে সেখান থেকে প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

তিতাসে বর্তমানে উৎপাদন ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট

বিজিএফসিএল সূত্র অনুযায়ী, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের বর্তমানে উৎপাদনে থাকা ২৩টি কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে পুরোনো কূপগুলোতে গ্যাসের মজুত ও চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন ধীরে ধীরে কমছে।

এই পরিস্থিতিতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে নতুন তিনটি কূপ খননের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

৬ মাসের মধ্যে সরবরাহের আশা

গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব জানান, ২৯ নম্বর কূপের খনন শেষ হয়েছে এবং ওই কূপের রিগ ব্যবহার করে শিগগিরই ৩০ নম্বর কূপের খনন শুরু করা হবে। ৩১ নম্বর কূপের খনন শেষ হতে আরও প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে।

বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক বলেন, আগামী ৬ মাসের মধ্যে তিনটি নতুন কূপের খনন শেষ করে প্রতিদিন অন্তত ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, এই গ্যাসের পরিমাণ দেশের মোট চাহিদার তুলনায় খুব বেশি নয়। তবে এর মাধ্যমে এলএনজি থেকে কিছুটা গ্যাসের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে, যা জ্বালানি সংকটের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিতাসের পাশাপাশি বিজিএফসিএল পরিচালিত অন্যান্য গ্যাসক্ষেত্রেও নতুন কূপ খননের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Social Icons