তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলীয় মানিসা প্রদেশে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শিক্ষার্থীও রয়েছে। এ ঘটনায় এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি ও আল জাজিরা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ইনজি উজমেজ ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল আনাতোলিয়ান হাই স্কুলের বাইরে গুলিবর্ষণের পর বন্দুকধারী পালিয়ে যায়। আহতদের মধ্যে দুজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কিশোরসহ পরিবারের সদস্যরা আটক
তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানিয়েছেন, ঘটনায় সন্দেহভাজন এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার মা, বাবা ও দাদাকেও আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সন্দেহভাজন কিশোরটি ওই স্কুলেরই একজন শিক্ষার্থী।
সিসিটিভিতে অস্ত্র হাতে সন্দেহভাজন
সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে একটি ফাঁকা রাস্তায় হাঁটতে দেখা যায়। তার হাতে একটি শটগান ছিল এবং ফুটেজে তাকে অস্ত্রটি পরীক্ষা করতেও দেখা গেছে।
পরবর্তী ফুটেজে তাকে অস্ত্র হাতে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখা যায়।
হামলার উদ্দেশ্য তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।
তদন্ত শুরু
তুরস্কের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে শিক্ষা সম্প্রদায়ের জন্য গভীরভাবে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছে। ঘটনায় তদন্তের জন্য তিনজন জাতীয় তদন্তকারীকে মানিসায় পাঠানো হয়েছে।
তুরস্কের আইন অনুযায়ী, সন্দেহভাজন কিশোরকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তারের আগে আদালতে হাজির করা হবে।
স্কুলে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ
এটি চলতি বছর তুরস্কে তৃতীয় স্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে এ ধরনের ঘটনা দেশটিতে খুব একটা দেখা যেত না।
এপ্রিল মাসে দুটি প্রাণঘাতী স্কুল হামলার পর তুরস্কে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়, যার মধ্যে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার বিষয়ও ছিল।
কাহরামানমারাসে আগের একটি হামলায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর ১০ ও ১১ বছর বয়সী নয়জন শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষককে হত্যা করেছিল। ওই হামলাকারী ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
