স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর দেশ গঠনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশে যেন ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন আর ফিরে না আসে এবং ধর্মের নামে কেউ বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামী ব্যক্তিত্বদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
ধর্মের নামে বিভ্রান্তি রোধে সতর্ক থাকার আহ্বান
রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বৈরাচারের পতনের পর মহান আল্লাহ দেশ গড়ার যে সুযোগ দিয়েছেন, তা কাজে লাগাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে অতীতের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন যেন আবার ফিরে না আসে, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
ধর্মকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন বিভ্রান্তি তৈরি করতে না পারে, সে ব্যাপারেও সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, তাঁরা ইসলামি পণ্ডিত ও আলেম-ওলামাদের যথেষ্ট সম্মান করতেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ইসলামের প্রতি মমতাবোধ থেকে জিয়াউর রহমান সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করেছিলেন। এ ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইসলামি মূল্যবোধ নিয়ে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য
রাষ্ট্রপতি জানান, বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক মানুষ। তবে ইসলামি মূল্যবোধ ও শরিয়ায় আঘাত আসে, এমন কোনো কাজ যেন কেউ না করে, সে বিষয়ে তিনি নজর রাখবেন বলে জানান।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিনিয়োগ ও অনুদান আনার আলোচনা
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা মধ্যপ্রাচ্যের ধনী ও উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। এসব দেশ থেকে অনুদান ও সহায়তা আনার ক্ষেত্রেও তাঁদের আরবি ভাষায় দক্ষতা, যোগাযোগের সক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক কাজে লাগানোর অনুরোধ জানান তাঁরা।
জবাবে রাষ্ট্রপতি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন। এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
হাটহাজারী ও বাবুনগর মাদ্রাসা সফরের আমন্ত্রণ
প্রতিনিধিদলটি রাষ্ট্রপতিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসা এবং ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসা পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানায়।
রাষ্ট্রপতি সুবিধাজনক সময়ে মাদ্রাসা দুটি সফর করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়েও আগ্রহ জানান।
প্রতিনিধিদলে যারা ছিলেন
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুফতি বশিরুল্লাহর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি বঙ্গভবনে যায়।
দলটির অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি হারুন ইজহার ও মাওলানা মীর ইদরীস নদভি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা রফিকুল ইসলাম, জাতীয় ইমাম খতিব কাউন্সিলের কো-অর্ডিনেটর মাওলানা ফয়সাল এবং খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ।
সাক্ষাৎকালে ধর্মীয় মূল্যবোধ, দেশ গঠন, মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মাদ্রাসা সফরসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।






