জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে নিজের দেওয়া অতীতের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, পাটওয়ারীর ‘নোংরা ভাষার’ জবাব নোংরা ভাষায় দেওয়া তার ঠিক হয়নি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক পোস্টে নিজের আগের মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে এ অবস্থান জানান রাশেদ খান।
রাশেদ খান বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অতীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী, কন্যা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদসহ বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে তীর্যক, অকথ্য ও অশ্রাব্য ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন। এর প্রেক্ষাপটে কয়েক মাস আগে তিনি অসাবধানতাবশত একটি উদাহরণমূলক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ন্যূনতম পরিশীলিত রাজনীতি করলে, হয়তো কখনোই আমার এমন উদাহরণ দেওয়া লাগতো না।’
নিজের সেই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে রাশেদ খান বলেন, পাটওয়ারী তাকে নিয়েও অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলায় বিষয়টি ব্যক্তিগত সংক্ষুব্ধতা ও তিক্ততায় রূপ নেয়। এ বিষয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে আর কথা না বলার জন্য পাটওয়ারী তাকে ফোনও করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
রাশেদ বলেন, ‘এবং এ বিষয়ে একে-অপরের বিরুদ্ধে না বলার জন্য সে আমাকে কলও করেছিল, যে বিষয়ে আমিই আগেই জানিয়েছিলাম। কিন্তু সে ৫-৬ ঘণ্টা পর তার কমিটমেন্ট ব্রেক করে।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক বিভিন্ন মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খান বলেন, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা নিয়েও তার মন্তব্যের বিষয়টি সবার নজরে এসেছে।
তবে এসবের জবাবে নিজের ভাষা ব্যবহারের বিষয়ে আত্মসমালোচনা করেছেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, তার প্রতিক্রিয়া ‘টিট ফর ট্যাট’-এর মতো হলেও এমন ভাষা ব্যবহার করা ঠিক হয়নি।
তিনি বলেন, ‘তবুও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো নোংরা ভাষার জবাব নোংরা ভাষায় দেওয়া আমার ঠিক হয়নি—এমনটা মনে করেন দেশ-বিদেশে অবস্থানরত আমার অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী!’
২০২৪-পরবর্তী রাজনীতির গতিপথে দেশ গঠন, মানবিক মর্যাদা ও বৃহত্তর কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে রাশেদ খান নিজের ভাষাগত ভুল প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে নিজেকে সংশোধনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘আমার প্রতিক্রিয়ার বিষয় ছিল ‘টিট ফর ট্যাট’-এর মতো। কিন্তু ২০২৪-পরবর্তী রাজনীতির গতিপথে আমরা চেয়েছি দেশ গঠন, মানবিক মর্যাদা আর বৃহত্তর কল্যাণকে প্রাধান্য দিতে। আর এ কারণে আমার জায়গা থেকে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাষাগত ভুল হয়েছে, তা প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে নিজেকে শুধরিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।’
রাজনৈতিক পরিসরে গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি সহনশীলতা ও পরিশীলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান।
তিনি বলেন, ‘আমি বা আমাদের সবারই উচিত গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি সহনশীল ও পরিশীলিত রাজনীতির সুযোগ সৃষ্টি করা।’
নিজের রাজনৈতিক পথচলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ২০১৮ সাল থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক অভিযাত্রায় তিনি সবসময় সহনশীল থাকা এবং ভাষা ব্যবহারে সতর্ক থাকার চেষ্টা করেছেন।
রাশেদ বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক অভিযাত্রায় আমি সবসময় সহনশীল ও ভাষার ব্যবহারে সতর্ক থাকার চেষ্টা করেছি। এই প্রচেষ্টা ও সতর্কতা সবসময় অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’
ঘৃণা ছড়িয়ে রাজনৈতিকভাবে কেউ লাভবান হবে না বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান। তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিরাজনীতিকরণের উদ্দেশ্যে থাকা গোষ্ঠীই লাভবান হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ঘৃণা ছড়িয়ে আমরা কেউই লাভবান হতে পারবো না। তাতে কেবল বিরাজনীতিকরণের উদ্দেশ্যে বসে থাকা গোষ্ঠী উপকৃত হবে।’





