জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই শীর্ষ নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ভোটার এলাকা পরিবর্তন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। পাটওয়ারী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোটার হয়েছেন, আর আসিফ মাহমুদ হয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আফতাবনগর এলাকার ভোটার। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই পরিবর্তনের পেছনে বড় রাজনৈতিক পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পাটওয়ারী দক্ষিণে, আসিফ উত্তরে
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা এলাকার ঢাকা-১৮ আসনের ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করেন তিনি। যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষার পর তার আবেদন অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন।
অন্যদিকে, দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি তার ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আসিফ মাহমুদ নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩-এর মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তার আবেদনও অনুমোদন করা হয়।
সিটি নির্বাচন ঘিরে নতুন জল্পনা
দুই নেতার বিপরীতমুখী ভোটার এলাকা পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে এমন সময়ে, যখন সম্ভাব্য সিটি নির্বাচন এবং প্রার্থী বাছাই নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে।
ফলে বিষয়টিকে নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না অনেকেই। প্রশ্ন উঠেছে, এনসিপি কি ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ এবং ঢাকা দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মেয়র প্রার্থী করার পরিকল্পনা করছে?
নাকি ভোটার এলাকা পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে আরও কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ?
এনসিপির শীর্ষ নেতার বক্তব্য
এ বিষয়ে এনসিপির এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, দুই সিটিতে এনসিপির জয় চায় দল। এ দুই এলাকা থেকে আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সে কারণেই তারা নির্বাচনি এলাকা পরিবর্তন করেছেন।
এই বক্তব্য দুই নেতার ভোটার এলাকা পরিবর্তনকে আসন্ন সিটি নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক প্রস্তুতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছে।
জামায়াতের সঙ্গে সমীকরণ নিয়েও প্রশ্ন
দুই নেতার ভোটার এলাকা পরিবর্তন নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল কাদের পৃথক দুটি পোস্ট দিয়েছেন।
এক পোস্টে তিনি ইঙ্গিত দেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা দক্ষিণ থেকে নির্বাচন করলে জামায়াতের প্রার্থী সাদিক কায়েম তার প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন। পাটওয়ারী জামায়াতের দিকে রাজনৈতিক অবস্থান আরও কঠোর করলে তার সমর্থকদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্য পোস্টে আসিফ মাহমুদের ঢাকা উত্তরে নির্বাচন করার সম্ভাবনাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন আব্দুল কাদের। তার মতে, আসিফ মাহমুদের চিন্তাভাবনা ও রাজনৈতিক চরিত্রের সঙ্গে ঢাকা উত্তরের পরিবেশের ভালো মিল রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত কী হবে?
এনসিপির দুই নেতার ভোটার এলাকা পরিবর্তন এখন সিটি নির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক হিসাব সামনে এনেছে। একদিকে দলটির পক্ষ থেকে দুই সিটিতে তাদের প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে জামায়াতের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক সমঝোতার প্রশ্নও সামনে এসেছে।
তবে এখনো সিটি করপোরেশন নির্বাচন কবে হবে এবং চূড়ান্তভাবে কোন দল কাকে মেয়র প্রার্থী করবে, তা নিশ্চিত নয়। ফলে আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা পরিবর্তনের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর থাকবে।






