GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / লাইফ স্টাইল / পিত্তথলির ক্যানসার কাদের বেশি হয়, কীভাবে শনাক্ত করবেন

পিত্তথলির ক্যানসার কাদের বেশি হয়, কীভাবে শনাক্ত করবেন

পিত্তথলির ক্যানসার কাদের বেশি হয়, কীভাবে শনাক্ত করবেন

শরীরের অনেক রোগের লক্ষণ শুরুতে খুব সাধারণ মনে হতে পারে। পিত্তথলির ক্যানসারও তেমন একটি রোগ, যার প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে পেটের ব্যথা, বমি ভাব বা হজমের সমস্যাকে সাধারণ গ্যাস্ট্রিক কিংবা পিত্তথলির পাথরের সমস্যা মনে করে অনেকে গুরুত্ব দেন না।

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, পিত্তথলির ক্যানসার একটি বিরল রোগ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে এটি অনেক সময় কোনো লক্ষণ সৃষ্টি করে না। লক্ষণ দেখা দিলেও তা পিত্তথলির অন্যান্য সাধারণ সমস্যার সঙ্গে মিলে যেতে পারে।

পিত্তথলি কী এবং এর কাজ কী?

পিত্তথলি লিভারের নিচে থাকা ছোট, নাশপাতি আকৃতির একটি অঙ্গ। লিভারে তৈরি পিত্তরস সংরক্ষণ করাই এর অন্যতম প্রধান কাজ। এই পিত্তরস খাবারের চর্বি হজমে সহায়তা করে।

পিত্তথলির ভেতরের স্তর থেকে ক্যানসারের উৎপত্তি হতে পারে এবং পরে এটি আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কেন পিত্তথলির ক্যানসার দেরিতে ধরা পড়ে?

এর অন্যতম কারণ হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক রোগীর কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। পিত্তথলি শরীরের ভেতরে এবং লিভারের নিচে অবস্থান করায় সেখানে তৈরি হওয়া ক্যানসার সহজে শনাক্ত নাও হতে পারে।

এ ছাড়া পরবর্তী সময়ে যে লক্ষণগুলো দেখা দেয়, সেগুলো পিত্তথলির পাথর বা অন্যান্য সাধারণ পিত্তথলির সমস্যার মতো হতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে পিত্তথলির পাথরের চিকিৎসার জন্য অস্ত্রোপচারের সময় ঘটনাক্রমে ক্যানসার শনাক্ত হয়।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন

পিত্তথলির ক্যানসারে সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • পেটের ওপরের ডান দিকে ব্যথা
  • চেষ্টা ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া
  • বমি ভাব বা বমি
  • চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া বা জন্ডিস
  • পেটে চাকা বা গাঁটের মতো অনুভূতি

তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যে পিত্তথলির ক্যানসার হয়েছে, তা নয়। একই ধরনের উপসর্গ অন্য অনেক রোগেও দেখা দিতে পারে।

কাদের ঝুঁকি বেশি?

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে পিত্তথলির ক্যানসার তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • পিত্তথলিতে পাথরের ইতিহাস
  • পিত্তথলির পলিপ
  • দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ
  • কিছু নির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদি পিত্তনালির সমস্যা
  • ধূমপান
  • স্থূলতা

তবে এসব ঝুঁকি থাকলেই ক্যানসার হবে এমন নয়। উদাহরণ হিসেবে, পিত্তথলির ক্যানসারে আক্রান্ত অনেকের পিত্তপাথরের ইতিহাস থাকলেও পিত্তপাথর থাকা মানুষের ১ শতাংশেরও কমের শেষ পর্যন্ত পিত্তথলির ক্যানসার হয়।

কীভাবে রোগ শনাক্ত করা হয়?

চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষা করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটি স্ক্যান, এমআরআই এবং অন্যান্য পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসার নিশ্চিত করতে বায়োপসি করা হয়।

চিকিৎসা কী?

চিকিৎসা নির্ভর করে ক্যানসারের স্টেজ, ছড়িয়ে পড়ার মাত্রা এবং রোগীর সামগ্রিক অবস্থার ওপর।

প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পিত্তথলি অপসারণ করা হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি বা টার্গেটেড থেরাপি ব্যবহার করা যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পিত্তনালির বাধা কমাতেও বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োজন হতে পারে।

সচেতনতা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

পেটের ওপরের ডান দিকে দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক ব্যথা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, বারবার বমি কিংবা জন্ডিসের মতো লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে কারণ নির্ধারণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

পিত্তথলির ক্যানসার বিরল হলেও এর প্রাথমিক লক্ষণ অস্পষ্ট হতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক উপসর্গকে অবহেলা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: Cleveland Clinic

Social Icons